বেসরকারি শিক্ষক অবসর ও কল্যাণ ভাতার হিসাব ২০২৬: এমপিও সুবিধা ক্যালকুলেটর
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতার হিসাব ২০২৬ জানুন। চাকরির মেয়াদ ও মূল বেতন অনুযায়ী কত টাকা পাবেন, আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ক্যালকুলেটর দেখুন।
📝তথ্যাদি প্রদান করুন
বর্তমান আনুমানিক অবসর সুবিধা
সম্ভাব্য মোট এককালীন অবসর সুবিধা
(৳৩৭.৫০ লাখ)
💰আপনার মাসিক বেতন কর্তনের হিসাব (১০%)
মূল বেতন: ৳৫০,০০০📊বর্তমান, ৫ বছর ও ১০ বছর পরের প্রাক্কলন তুলনা
বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ভিত্তিতে মূল বেতন ও সম্ভাব্য অবসর সুবিধার তুলনা।
| বিষয় | বর্তমান | ৫ বছর পরে | ১০ বছর পরে |
|---|---|---|---|
| মূল বেতন | ৳৫০,০০০ | ৳৬৩,৮১৪ | ৳৮১,৪৪৫ |
| চাকরির বয়স | ২৫ বছর | ৩০ বছর | ৩৫ বছর |
| প্রযোজ্য মাস | ৭৫ মাস | ৭৫ মাস | ৭৫ মাস |
| অবসর সুবিধা | ৳৩৭.৫০ লাখ (৳৩৭,৫০,০০০) | ৳৪৭.৮৬ লাখ (৳৪৭,৮৬,০৫০)* | ৳৬১.০৮ লাখ (৳৬১,০৮,৩৭৫)* |
* ভবিষ্যৎ মূল বেতন ইনক্রিমেন্ট নীতি (ডিফল্ট ৫% বার্ষিক) এর ওপর ভিত্তি করে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চূড়ান্ত হিসাব ভিন্ন হতে পারে।
📚কল্যাণ সুবিধা — ২০১৮, ২০২৩ ও ২০২৮ সালের রেফারেন্স তুলনামূলক টেবিল
কল্যাণ ট্রাস্টের বিভিন্ন পদে ২০১৮, ২০২৩ এবং ২০২৮ সালের মূল বেতন ও কল্যাণ সুবিধার তুলনামূলক তালিকা। যেকোনো লাইনে ক্লিক করে আপনার ক্যাটাগরি সেট করুন।
| পদ | বর্তমান বেতন স্কেল | ২০১৮ কল্যাণ সুবিধা | ২০২৩ মূল বেতন | ২০২৩ কল্যাণ সুবিধা | ২০২৮ মূল বেতন | ২০২৮ কল্যাণ সুবিধা |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 👉অধ্যক্ষ | ৳৫০,০০০ | ৳১৩,৯৯,৯৫০ | ৳৬০,৮৪০ | ৳২০,০৯,৬৭০ | ৳৭৪,৮০০ | ৳২৮,২৭,১৫০* |
| উপাধ্যক্ষ | ৳৪৩,০০০ | ৳১২,০৩,৯৫০ | ৳৫৩,৬১০ | ৳১৭,৬৮,০৮০ | ৳৬৬,৮৪০ | ৳২৫,৩৯,৮৯০ |
| সহকারী অধ্যাপক | ৳৩৫,৫০০ | ৳৯,৯৯,৯৫০ | ৳৪৫,৩৩০ | ৳১৪,৯৫,৪৮০ | ৳৫৭,৮৯০ | ৳২১,৯৯,০১০ |
| প্রভাষক | ৳২৯,০০০ | ৳৮,১১,৯৫০ | ৳৩৭,০৩০ | ৳১২,২১,৪৮০ | ৳৪৭,০০০ | ৳১৭,৯৭,৩৫০ |
| প্রদর্শক | ৳২৩,০০০ | ৳৬,৪৯,৯৫০ | ৳২৯,৩৭০ | ৳৯,৬৬,১৬০ | ৳৩৭,৫১০ | ৳১৪,২৫,৩৬০ |
| সিনিয়র শিক্ষক | ৳২২,০০০ | ৳৬,১৫,৯৫০ | ৳২৮,১০০ | ৳৯,২৭,২৫০ | ৳৩৫,৮৮০ | ৳১৩,৬৬,৩৯০ |
| সহকারী শিক্ষক | ৳১৬,০০০ | ৳৪,৪৭,৯৫০ | ৳২০,৪৪০ | ৳৬,৭৪,৪৯০ | ৳২৬,১২০ | ৳৯,৯২,০০০* |
| জুনিয়র শিক্ষক | ৳১১,০০০ | ৳৩,০৭,৯৫০ | ৳১৪,০৫০ | ৳৪,৬৩,৬০০ | ৳১৭,৯৬০ | ৳৬,৮২,৪৮০ |
| অফিস সহকারী | ৳৯,৭০০ | ৳২,৭১,৯৫০ | ৳১২,৪১০ | ৳৪,০৯,৪৮০ | ৳১৫,৮৯০ | ৳৬,০৩,০১০ |
| অফিস সহায়ক | ৳৮,৫০০ | ৳২,৩৭,৯৫০ | ৳১০,৮৭০ | ৳৩,৫৮,৬৬০ | ৳১৩,৯০০ | ৳৫,২৮,১৫০ |
* * চিহ্নযুক্ত সুবিধাগুলো রেফারেন্স তুলনামূলক টেবিল থেকে গৃহীত এবং দাপ্তরিক আদেশের সাপেক্ষে চূড়ান্ত।
ডিসক্লেইমার: এই calculator ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য এবং প্রদত্ত benefit schedule-এর ভিত্তিতে আনুমানিক হিসাব করে। প্রকৃত অবসর ও কল্যাণ সুবিধা চাকরির মেয়াদ, প্রযোজ্য বিধিমালা, সংশ্লিষ্ট বোর্ড/ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত এবং সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ১৫–২৫ বছরের কম চাকরির মেয়াদের পূর্ণ benefit schedule এই specification-এ দেওয়া নেই। কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করুন।
২০২৬ সালের আইনের নতুন সংশোধনী অনুযায়ী iBAS++ ইএফটি পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সুবিধা অন্তর্ভুক্তিকরণের নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে।
💡বেসরকারি শিক্ষক অবসর ভাতা ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন
পদ ও ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন
আপনার পদবি (অধ্যক্ষ, প্রভাষক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী) নির্বাচন করে মূল বেতন স্কেল নির্ধারণ করুন।
মূল বেতন ও চাকরির মোট মেয়াদ দিন
আপনার সঠিক মূল বেতন (ভাতা ব্যতীত) এবং চাকরির মোট অর্জিত বছর ও মাস ইনপুট দিন।
এককালীন সুবিধা ও প্রাক্কলন দেখুন
অবসর সুবিধা বোর্ডের এককালীন অনুদান, কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা এবং ৫/১০ বছরের প্রাক্কলন তাৎক্ষণিক দেখুন।
বেসরকারি শিক্ষক অবসর সুবিধা কী?
বাংলাদেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত (MPO) স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং কর্মচারীগণ সরকারি কর্মচারীদের মতো প্রতি মাসে আজীবন পেনশনের অন্তর্ভুক্ত নন। তাদের অবসরকালীন জীবনের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার আইনের মাধ্যমে দুটি স্বতন্ত্র ট্রাস্ট ও বোর্ড গঠন করেছে:
🏛️বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড
চাকরির মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে শেষ মূল বেতনের নির্দিষ্ট মাসের সমপরিমাণ (সর্বোচ্চ ৭৫ মাস) এককালীন বড় আর্থিক অনুদান প্রদান করে।
🤝বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট
শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও আকস্মিক প্রয়োজন বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে এককালীন কল্যাণ ভাতা ও চিকিৎসাসহ বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
কারা অবসর ও কল্যাণ ভাতা পাবেন?
বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত এবং এমপিও (MPO) কোডভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল নিয়মিত শিক্ষক ও কর্মচারী এই সুবিধার আওতাভুক্ত:
- ✓ এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী
- ✓ ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যায়ের এমপিওভুক্ত কলেজের শিক্ষকবৃন্দ
- ✓ দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্টাফ
- ✓ কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী
- ✓ ২০২৬ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর কত টাকা কর্তন হয়?
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি মাসের সরকারি মূল বেতন (Basic Salary) থেকে সর্বমোট ১০% টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্তন করে স্থায়ী দুটি তহবিলে জমা রাখা হয়:
চাকরি শেষে এককালীন একমুঠো মূল বেতনের মাসভিত্তিক অনুদান প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
কল্যাণ ভাতা, চিকিৎসার জন্য বিশেষ অনুদান ও নমিনী সুবিধার জন্য জমা রাখা হয়।
চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী অবসর ভাতার হিসাব
সরকারি বিধি অনুযায়ী আপনার সম্পূর্ণ অর্জিত চাকরির বয়স (Completed Years of Service) হিসেব করে মাসভিত্তিক স্কেল নির্ধারণ করা হয়:
| চাকরির অর্জিত মেয়াদ | প্রযোজ্য অবসর সুবিধার মাস | উদাহরণ (মূল বেতন ৳৫০,০০০ হলে) |
|---|---|---|
| ১০ বছর ≤ মেয়াদ < ১১ বছর | ১০ মাসের মূল বেতন | ৳৫,০০,০০০ |
| ১১ বছর ≤ মেয়াদ < ১২ বছর | ১৩ মাসের মূল বেতন | ৳৬,৫০,০০০ |
| ১২ বছর ≤ মেয়াদ < ১৩ বছর | ১৬ মাসের মূল বেতন | ৳৮,০০,০০০ |
| ১৩ বছর ≤ মেয়াদ < ১৪ বছর | ১৯ মাসের মূল বেতন | ৳৯,৫০,০০০ |
| ১৪ বছর ≤ মেয়াদ < ১৫ বছর | ২২ মাসের মূল বেতন | ৳১১,০০,০০০ |
| ১৫ বছর ≤ মেয়াদ < ২৫ বছর | স্পেসিফিকেশনে নিয়ম নির্ধারিত নেই | তথ্য যাচাই প্রয়োজন |
| ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব | ৭৫ মাসের মূল বেতন | ৳৩৭,৫০,০০০ (৳৩৭.৫০ লাখ) |
কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের পার্থক্য
| বিষয় / বৈশিষ্ট্য | অবসর সুবিধা বোর্ড | কল্যাণ ট্রাস্ট |
|---|---|---|
| বেতন থেকে মাসি কর্তন | ৬% (ছয় শতাংশ) | ৪% (চার শতাংশ) |
| সুবিধার ধরণ | এককালীন বড় অবসর অনুদান (মাস ভিত্তিক) | এককালীন কল্যাণ অনুদান ও বিশেষ সহায়তা |
| সর্বোচ্চ সীমা | ৭৫ মাসের মূল বেতন (২৫+ বছর মেয়াদে) | পদ ও গ্যাজেটভিত্তিক রেফারেন্স স্কেল |
| জরুরি চিকিৎসা অনুদান | প্রযোজ্য নয় | জরুরি ক্ষেত্রে বিশেষ অনুদানের সুযোগ রয়েছে |
অবসর সুবিধার জন্য আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে
অনলাইনে আবেদন করার সময় এবং মূল ফাইল জমাদানের সময় নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়:
বাস্তব উদাহরণ ও শিক্ষক কেইস স্টাডি (Case Studies)
বিভিন্ন পদবি ও অর্জিত চাকরির মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে আনুমানিক অবসর সুবিধার ৩টি বাস্তব গাণিতিক উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
শেষ মূল বেতন: ৳৫০,০০০
অর্জিত মেয়াদ: ২৫ বছর (পূর্ণ)
প্রযোজ্য মাস: ৭৫ মাসের মূল বেতন
শেষ মূল বেতন: ৳৩৫,৫০০
অর্জিত মেয়াদ: ১৪ বছর (পূর্ণ)
প্রযোজ্য মাস: ২২ মাসের মূল বেতন
শেষ মূল বেতন: ৳২২,০০০
অর্জিত মেয়াদ: ১০ বছর (পূর্ণ)
প্রযোজ্য মাস: ১০ মাসের মূল বেতন
অনলাইন আবেদন থেকে iBAS++ পেমেন্ট পাওয়ার ৫টি ধাপ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইএফটি (EFT) পেমেন্ট নিষ্পত্তির পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া:
EMIS পোর্টাল আবেদন
emis.gov.bd পোর্টালে অনলাইন ফরম ও ফাইল আপলোড
প্রতিষ্ঠান সুপারিশ
গভর্নিং বডি (GB/SMC) অনুমোদন ও সার্ভিস বুক সত্যায়ন
DEO ভেরিফিকেশন
জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক LPC ও এমপিও রেকর্ড যাচাই
অবসর বোর্ড অনুমোদন
বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কমিটি কর্তৃক অর্থ বরাদ্দ
iBAS++ EFT পেমেন্ট
শিক্ষকের ব্যাংকে সরাসরি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার
২০২৬ সালের সংশোধিত আইন/অধ্যাদেশে কী পরিবর্তন এসেছে
২০২৬ সালের নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে:
- 🔹স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ভুক্তি: নতুন আইনে রেজিস্টার্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সুবিধা কাঠামোর আওতায় আনার বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে।
- 🔹বকেয়া নিষ্পত্তিতে বিশেষ থোক বরাদ্দ: জমাকৃত আবেদনের ব্যাকলগ বা জট কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিশেষ বাজেট বরাদ্দ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
- 🔹স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: আবেদনের বর্তমান অগ্রগতি (Status Tracker) প্রার্থীর মোবাইলে এসএমএস (SMS) নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অবসর ভাতা পেতে কত সময় লাগতে পারে
ফান্ডে অর্থ জমা হওয়া ও সরকারি অনুদানের ওপর ভিত্তি করে আবেদনের পর সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জেষ্ঠ্যতার ক্রমানুসারে (Seniority basis) আবেদনসমূহ নিষ্পত্তি করা হয়। অনলাইনে নিয়মিত আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করা যায়।
মৃত শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবার কীভাবে সুবিধা পাবে
কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় বা আবেদনের সুবিধা পাওয়ার পূর্বে মৃত্যুবরণ করলে, তার মনোনীত নমিনী (Nominee) অথবা আদালতের উত্তরাধিকার সনদ (Succession Certificate) অনুযায়ী পরিবার পুরো এককালীন পাওনা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান গ্রহণ করতে পারবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. বেসরকারি শিক্ষক অবসর ভাতা কত টাকা পাবেন?▼
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের অর্জিত চাকরির মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে শেষ মূল বেতনের নির্দিষ্ট মাসের সমপরিমাণ টাকা পান। ১০ বছর মেয়াদে ১০ মাসের মূল বেতন, ১৪ বছর মেয়াদে ২২ মাসের মূল বেতন এবং ২৫ বছর বা তার বেশি মেয়াদে সর্বমোট ৭৫ (পঁচাত্তর) মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ এককালীন অবসর সুবিধা পাবেন।
২. এমপিওভুক্ত শিক্ষক কি পেনশন পান?▼
না, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি শিক্ষকদের মতো প্রতি মাসে আজীবন মাসিক পেনশন পান না। তারা অবসর গ্রহণে দুটি পৃথক সংস্থা থেকে এককালীন (Lump-sum) আর্থিক সুবিধা পান: ১) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং ২) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট।
৩. কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের মধ্যে পার্থক্য কী?▼
অবসর সুবিধা বোর্ড মূল বেতনের ওপর নির্ধারিত মাসভিত্তিক (সর্বোচ্চ ৭৫ মাস) এককালীন বড় অনুদান প্রদান করে। পক্ষান্তরে কল্যাণ ট্রাস্ট চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে কল্যাণ অনুদান ও বিশেষ সুবিধা দেয়। প্রতি মাসে শিক্ষকদের বেতন থেকে মোট ১০% কর্তন করা হয়—এর মধ্যে ৬% অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং ৪% কল্যাণ ট্রাস্ট তহবিলে জমা হয়।
৪. বেসরকারি শিক্ষক অবসর ভাতার আবেদন কীভাবে করবেন?▼
অবসর বা পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে অনলাইন পোর্টালে (emis.gov.bd / অবসর সুবিধা বোর্ড পোর্টাল) আবেদন করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস বই, এমপিও শিট, শেষ বেতনের সনদ (LPC), NID ও ব্যাংক হিসাবের তথ্যাদি জমা দিতে হয়। বর্তমানে iBAS++ এর মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইএফটি (EFT) পেমেন্ট করা হচ্ছে।
৫. শিক্ষক অবসর ভাতা পেতে কত বছর চাকরি করতে হয়?▼
অবসর সুবিধার বর্তমান শিডিউল অনুযায়ী ন্যূনতম ১০ (দশ) বছর চাকরি সম্পন্ন করতে হয়। ১০ বছরের কম চাকরি হলে বর্তমান শিডিউল অনুযায়ী অবসর সুবিধা প্রযোজ্য হয় না। তবে বিশেষ শারীরিক অক্ষমতা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে ট্রাস্টের বিশেষ নীতিমালা প্রযোজ্য হতে পারে।
৬. অবসর সুবিধার টাকা পেতে কত সময় লাগে?▼
সাধারণত পর্যাপ্ত সরকারি অনুদান ও ফান্ড প্রাপ্তি সাপেক্ষে আবেদনের পর ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে ২০২৬ সালের নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বকেয়া পরিশোধে বিশেষ বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে প্রক্রিয়াকরণের গতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৭. মৃত শিক্ষক বা কর্মচারীর পরিবার কি কল্যাণ ভাতা পাবে?▼
হ্যাঁ, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী কর্মরত অবস্থায় বা অবসরগ্রহণের পর সুবিধার টাকা পাওয়ার পূর্বে মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীত নমিনী বা বৈধ ওয়ারিশগণ নিয়ম অনুযায়ী অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পুরো পাওনা এককালীন উত্তোলন করতে পারবেন।
৮. ২০২৬ সালে বেসরকারি শিক্ষক অবসর সুবিধার নতুন নিয়ম কী?▼
২০২৬ সালের সংশোধিত অধ্যাদেশ ও গেজেটে তহবিল ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ করা, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা কাঠামোর অন্তর্ভুক্তিকরণ, অনলাইন মনিটরিং এবং iBAS++ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইএফটি-তে (EFT) টাকা প্রেরণের নিয়ম জোরদার করা হয়েছে।
দায়বদ্ধতা স্বীকার: এই ওয়েবসাইটের সমস্ত হিসাব ও তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও সহায়ক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করুন।
অন্যান্য প্রয়োজনীয় আর্থিক টুলস
আবেদন ফরম খুঁজছেন?
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে সরাসরি অফিসিয়াল ক্রয় এবং নগদায়ন ফরম ডাউনলোড করুন।
অফিসিয়াল ফরম দেখুন →