বাংলাদেশ সঞ্চয় গবেষণা দল কর্তৃক লিখিত ও যাচাইকৃতসর্বশেষ আপডেট: জুলাই ২০২৬সূত্র: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গেজেট ২০২৬

যাকাত ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ

আপনার যাকাতের হিসাব সহজ এবং নির্ভুলভাবে সম্পাদন করুন। স্বর্ণ, রৌপ্য, নগদ সঞ্চয়, ব্যবসায়িক সম্পদ এবং দায়দেনা ইনপুট করে বর্তমান নিসাব অনুযায়ী যাকাতের পরিমাণ নির্ণয় করুন।

সর্বশেষ আপডেট: মে ২০২৬

💡কীভাবে ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করবেন

Step 1 / 3

স্বর্ণ ও রৌপ্য ইনপুট দিন

আপনার মালিকানাধীন স্বর্ণ ও রৌপ্যের পরিমাণ (ভরি/তোলা) অথবা বর্তমান বাজার মূল্য লিখুন।

Step 2 / 3

নগদ ও সঞ্চয় লিখুন

হাতে থাকা নগদ টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স এবং ডিপিএস, এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের মতো দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় লিখুন।

Step 3 / 3

ঋণ ও দায় বাদ দিন

আপনার প্রদেয় ঋণ বা তাৎক্ষণিক দায়সমূহ বাদ দিয়ে নিট যাকাতযোগ্য সম্পদ এবং তার ওপর ২.৫% যাকাত হিসাব করুন।

স্বর্ণ ও রৌপ্য মূল্য (পরিবর্তনশীল)

স্বর্ণ ও রৌপ্য

নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমাসমূহ

বিনিয়োগ ও ব্যবসার সম্পদ

ঋণ ও দায়দেনা

দ্রষ্টব্য: নগদ টাকার ক্ষেত্রে রৌপ্যের নিসাবকে অধিক গ্রহণযোগ্য ধরা হয় কারণ এতে সাধারণ গরীব মানুষ বেশি উপকৃত হতে পারে।

প্রদেয় যাকাতের পরিমাণ

৳১৭,৫০০.০০

নিট সম্পদ

৳৭,০০,০০০.০০

যাকাত স্ট্যাটাস

যাকাত ফরজ

সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ

স্বর্ণের মূল্য৳০.০০
রৌপ্যের মূল্য৳০.০০
নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমার যোগফল৳৭,০০,০০০.০০
সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার বাজার৳০.০০
ব্যবসা ও অন্যান্য পাওনা অর্থ৳০.০০
মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ৳৭,০০,০০০.০০
বাদ প্রদেয় ঋণ ও দেনা-৳০.০০
নিট যাকাতযোগ্য সম্পদ৳৭,০০,০০০.০০

নিসাব সীমার বিবরণ

রৌপ্য নিসাব সীমা (৫৯৫ গ্রাম)৳১,০৭,১০০.০০

৫৯৫ গ্রাম × ৳180 / গ্রাম ধরে হিসাব করা হয়েছে।

যাকাত এবং এর মৌলিক নিয়মনীতি

যাকাত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন বা স্তম্ভ। এটি এমন এক আর্থিক ইবাদত যা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের (নিসাব) মালিক সকল স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলমানের ওপর আদায় করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ করা হয়েছে। সমাজে সম্পদকে কুক্ষিগত হওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং দরিদ্র মানুষের সহায়তার মাধ্যমে সামাজিক সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যাকাতের প্রধান উদ্দেশ্য।

একজন মুসলমানের নিট যাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% (শতকরা আড়াই টাকা বা ১/৪০ অংশ) যাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়, যদি সেই সম্পদ তার মালিকানায় পূর্ণ এক চন্দ্রবছর (হাওল) অতিবাহিত করে। যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স, স্বর্ণ ও রৌপ্য, ব্যবসায়িক পণ্য, শেয়ার বাজারের শেয়ার এবং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় (ডিপিএস, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র) অন্তর্ভুক্ত।

নিসাবের পরিমাণ বা সীমা

নিসাব হলো যাকাত ফরজ হওয়ার সর্বনিম্ন আর্থিক সীমা। শরিয়াহ অনুযায়ী এর দুটি পৃথক মানদণ্ড রয়েছে:

স্বর্ণের নিসাব

৮৫ গ্রাম স্বর্ণ (যা ৭.৫ তলা বা ভরি এর সমতুল্য)

৮৫ গ্রাম স্বর্ণ

রৌপ্যের নিসাব

৫৯৫ গ্রাম রৌপ্য (যা ৫১ তলা বা ভরি এর সমতুল্য)

৫৯৫ গ্রাম রৌপ্য

*ইসলামী পণ্ডিতদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমত অনুযায়ী, নগদ টাকা বা ব্যাংক জমার ক্ষেত্রে রৌপ্যের নিসাবকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা শ্রেয়। কারণ রৌপ্যের মূল্যমান বর্তমানে তুলনামূলক কম হওয়ায় অল্প সম্পদের মালিকরাও যাকাতের আওতাভুক্ত হন, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর।

কোন কোন সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ হয়?

যাকাতযোগ্য প্রধান সম্পদসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

  • স্বর্ণ ও রৌপ্য: সঞ্চিত স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার, কয়েন বা বার। (ব্যবহারের অলংকারের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত থাকলেও সঞ্চিত অলংকারের ওপর যাকাত ফরজ)।
  • নগদ অর্থ: নিজের কাছে, ঘরে রাখা বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমাকৃত যেকোনো অংকের নগদ টাকা।
  • সরকারি সঞ্চয়পত্র ও বন্ড: পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর সঞ্চয় বা বন্ডের আসল মূল্যের ওপর যাকাত হিসাব করতে হবে।
  • বিনিয়োগ: ডিপিএস (DPS), এফডিআর (FDR), শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে খাটানো টাকার আসল মূল্যের ওপর যাকাত প্রযোজ্য।
  • ব্যবসায়িক পণ্য: বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা যেকোনো কাঁচামাল বা প্রস্তুত পণ্যের বর্তমান বাজারমূল্য।
  • পাওনা টাকা: অন্য কারো কাছে ভালো ঋণ থাকলে, যা ফেরত পাওয়া নিশ্চিত, তার ওপর যাকাত ফরজ।

যাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে কোন কোন দেনা বাদ দিতে হবে?

যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে নিচের দায় বা ঋণগুলো বাদ দেওয়া যাবে:

  • ব্যক্তিগত কোনো লোন বা ঋণ যা অবিলম্বে বা আগামী ১২ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
  • বকেয়া কোনো ট্যাক্স, সরকারি পাওনা, বাড়ি ভাড়া বা ইউটিলিটি বিল যা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধযোগ্য।
  • ব্যবসার বকেয়া কর্মচারীদের বেতন বা ব্যবসায়িক পাওনাদারের বকেয়া বিল।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. সঞ্চয়পত্রের ওপর যাকাত কীভাবে হিসাব করা হয়?

সঞ্চয়পত্রের (যেমন পরিবার বা পেনশনার সঞ্চয়পত্র) আসল মূল্যের (Principal Investment) ওপর যাকাত ফরজ হয়। প্রতি বছর এই আসলের ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে। অর্জিত মুনাফার টাকা যদি ইতিমধ্যে খরচ হয়ে যায় তবে তার ওপর যাকাত নেই, তবে যদি মুনাফার টাকা নগদ হিসাবে বছরের শেষে ব্যাংকে জমে থাকে তবে তা যাকাতযোগ্য সম্পদে যুক্ত হবে।

২. স্বর্ণের কোন দামের ওপর যাকাত হিসাব করব?

স্বর্ণ যে দামে কিনেছিলেন সেই দাম নয়, বরং যে দিন আপনি যাকাতের হিসাব করছেন বা যাকাত দিচ্ছেন, সেই দিনের স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্যের (Current Market Rate) ওপর যাকাত হিসাব করতে হবে।

৩. সম্পদের ওপর এক বছর পূর্ণ হওয়ার নিয়মটি কী?

যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদ নিসাব পরিমাণ হওয়ার পর থেকে পূর্ণ এক চন্দ্রবছর (৩৫৪ দিন) অতিবাহিত হতে হবে। বছরের মাঝে সম্পদ নিসাব থেকে সাময়িকভাবে কমলেও যদি বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকে, তবে তা যাকাতযোগ্য হবে।

৪. কিস্তিতে যাকাত পরিশোধ করা যাবে কি?

হ্যাঁ, আপনি বছরের শুরুতে আনুমানিক যাকাত হিসাব করে প্রতি মাসে বা সুবিধাজনক সময়ে কিস্তিতে তা পরিশোধ করতে পারেন। বছর শেষে সম্পদের চূড়ান্ত হিসাব করে যদি কোনো বকেয়া থাকে তবে তা পরিশোধ করে দিতে হবে।

Advertisement