জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) • আয়কর আইন অডিট 2026

আয়কর ক্যালকুলেটর ২০২৬-২০২৭

আগামী করবর্ষের জন্য আপনার আয়কর দায় দ্রুত গণনা করুন। সর্বশেষ স্ল্যাব-ভিত্তিক ব্রেকডাউন এবং বিনিয়োগ রেয়াত নিয়মের সাথে আপডেট করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

💼আয়ের বিবরণ

৳

দ্রষ্টব্য: বেতনের ১/৩ অংশ (সর্বোচ্চ ৪.৫ লক্ষ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পাবে।

৳

👤ব্যক্তিগত তথ্য

0

📈বিনিয়োগ ও কর

৳

সর্বোচ্চ রেবেটের জন্য বিনিয়োগ: ৳৮০,০০০

৳

প্রতি মাসে নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্তিত পরিমাণ।

নিট প্রদেয় কর

৳০

কর বর্ষ

2026 – 2027

মোট আয়

৳৬,০০,০০০

করযোগ্য আয়

৳৪,০০,০০০

মোট করের দায়

৳০

📊বিস্তারিত হিসাব

মোট বার্ষিক আয়৳৬,০০,০০০
মোট বেতন অব্যাহতি-৳২,০০,০০০
করযোগ্য নিট আয়৳৪,০০,০০০

ট্যাক্স স্ল্যাব (হিসাব পদ্ধতি)

First Bracket (Tax Free) (0%)৳০

প্রযোজ্য পরিমাণ: ৳৪,০০,০০০

রেবেট পূর্ববর্তী কর৳০
রেবেটের জন্য সর্বোচ্চ বিনিয়োগ সীমা৳৮০,০০০
বিনিয়োগ রেবেট (১৫%)-৳০
মোট করের দায়বদ্ধতা৳০
বাদ: অগ্রিম কর (AIT)-৳০
নিট প্রদেয় কর৳০
আয়কর গাইড ও সরকারি বিধিমালা ২০২৬

বাংলাদেশে আয়কর হিসাব করার সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

১. বাংলাদেশে আয়কর ব্যবস্থা এবং এর গুরুত্ব

আয়কর হলো ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ব্যক্তি, কর্পোরেশন এবং অন্যান্য আইনি সত্তার বার্ষিক আয়ের ওপর আরোপিত একটি অন্যতম প্রধান প্রত্যক্ষ কর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) দ্বারা পরিচালিত এই সংগৃহীত কর জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনসেবামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য, আয়কর আইন অনুযায়ী কর পরিশোধ এবং রিটার্ন দাখিল করা কেবল একটি আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি বড় অবদান।

২. করবর্ষ ২০২৬-২৭ এর ব্যক্তিগত আয়কর স্ল্যাব ও করের হার

বাংলাদেশে আয়কর ব্যবস্থা প্রগতিশীল (progressive) পদ্ধতিতে কাজ করে, যার অর্থ হলো উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে করের হারও বেশি হয়। করযোগ্য সীমার ওপর ভিত্তি করে পুরুষ, নারী এবং অন্যান্য ক্যাটাগরির করদাতাদের জন্য প্রারম্ভিক করমুক্ত সীমা আলাদা করা হয়েছে:

  • সাধারণ পুরুষ করদাতা: প্রথম ৳৪,০০,০০০ পর্যন্ত বার্ষিক আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত।
  • নারী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্ব জ্যেষ্ঠ নাগরিক: প্রথম ৳৪,৫০,০০০ পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত।
  • প্রতিবন্ধী করদাতা: প্রথম ৳৫,২৫,০০০ পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত।
  • গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা: প্রথম ৳৫,৫০,০০০ পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত।
করযোগ্য আয়ের স্ল্যাবকরের হার
পরবর্তী ৳৩,০০,০০০ টাকার ওপর১০%
পরবর্তী ৳৪,০০,০০০ টাকার ওপর১৫%
পরবর্তী ৳৫,০০,০০০ টাকার ওপর২০%
পরবর্তী ৳২০,০০,০০০ টাকার ওপর২৫%
অবশিষ্ট সকল আয়ের ওপর৩০%

৩. বেতনভুক্ত চাকরিজীবীদের কর রেয়াত ও বেতন অব্যাহতি বিধি

বেতনভুক্ত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মোট গ্রস বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ আইন অনুযায়ী করমুক্ত বা কর অব্যাহতিযোগ্য ঘোষণা করা হয়। আয়কর বিধিমালা অনুযায়ী:

  • বেতন অব্যাহতি (Salary Exemption): মোট বার্ষিক গ্রস বেতনের এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) অথবা ৳৪,৫০,০০০—এর মধ্যে যেটি কম, তা মোট আয় থেকে সরাসরি বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় নির্ধারণ করা হয়।
  • বিনিয়োগ কর রেয়াত (Investment Tax Rebate): NBR অনুমোদিত খাতে (যেমন সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বীমা, ডিএসইর শেয়ার, বা প্রভিডেন্ট ফান্ড) বিনিয়োগ করলে করদাতারা কর ছাড় বা রেয়াত পেয়ে থাকেন। বার্ষিক মোট করযোগ্য আয়ের সর্বোচ্চ ২০% পর্যন্ত বিনিয়োগ রেয়াতের জন্য যোগ্য এবং যোগ্য বিনিয়োগের ওপর ফ্ল্যাট ১৫% কর রেয়াত বা ছাড় দেওয়া হয়।

৪. বাস্তব গাণিতিক উদাহরণ: বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা বেতনের কর হিসাব

১. মোট বার্ষিক বেতন: ৳১২,০০,০০০

২. বেতন অব্যাহতি (১/৩ অংশ): ৳১২,০০,০০০ / ৩ = ৳৪,০০,০০০ (যেহেতু এটি ৪,৫০,০০০ টাকার কম, তাই পুরো ৪ লক্ষ করমুক্ত)।

৩. করযোগ্য নিট আয়: ৳১২,০০,০০০ - ৳৪,০০,০০০ = ৳৮,০০,০০০

৪. গ্রস কর স্ল্যাব ভিত্তিক হিসাব:

  • প্রথম ৳৪,০০,০০০ @ ০% = ৳০
  • পরবর্তী ৳৩,০০,০০০ @ ১০% = ৳৩০,০০০
  • অবশিষ্ট ৳১,০০,০০০ @ ১৫% = ৳১৫,০০০

৫. মোট গ্রস ট্যাক্স: ৳৪৫,০০০

৬. বিনিয়োগ রেয়াত (যদি ১.৫ লক্ষ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড/সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থাকে): ১,৫০,০০০ এর ১৫% = ৳২২,৫০০ কর ছাড়।

৭. নিট প্রদেয় কর: ৳৪৫,০০০ - ৳২২,৫০০ = ৳২২,৫০০ (মেয়াদ শেষে NBR-এ প্রদেয়)।

৫. আয়কর সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. রিটার্ন দাখিল না করলে কী ধরণের জরিমানা হতে পারে?

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে NBR আয়কর আইনের ধারা অনুযায়ী এককালীন ৫,০০০ টাকা জরিমানা এবং বকেয়া করের ওপর প্রতি মাসে ২% হারে বিলম্ব মাশুল বা সুদ ধার্য করতে পারে।

২. জিরো রিটার্ন (Zero Return) কী এবং এটি কার জন্য বাধ্যতামূল?

যদি কোনো করদাতার বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে হয় এবং কোনো প্রদেয় কর না থাকে, তবে তাকে জিরো রিটার্ন দাখিল করতে হয়। আপনার যদি ই-টিন থাকে এবং করদাতার ক্যাটাগরি অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকে, তবে জিরো রিটার্ন দেওয়া আইনত বাধ্যতামূল।

৩. ডিপিএস (DPS) আমানতে কি কর রেয়াত পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, যেকোনো তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা (মাসিক ৫,০০০ টাকা) পর্যন্ত ডিপিএস বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াত বা ১৫% কর ছাড়ের দাবি করা যায়।

৪. ন্যূনতম কর (Minimum Tax) এর নিয়ম কী?

যদি আপনার বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তবে আপনার বসবাসের অঞ্চলভেদে NBR দ্বারা নির্ধারিত ন্যূনতম কর (যেমন ঢাকা/চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্য ৫,০০০ টাকা) প্রদান করতে হবে, এমনকি কর রেয়াত পাওয়ার পরও যদি প্রদেয় কর তার চেয়ে কম হয়।

বিজ্ঞাপন