ডিপিএস ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ
সঠিকভাবে আপনার সঞ্চয় পরিকল্পনা করুন। বাংলাদেশের সকল প্রধান ব্যাংকের বর্তমান ডিপিএস মুনাফার হার তুলনা করুন এবং আপনার ভবিষ্যতের জন্য সেরা স্কিমটি বেছে নিন।
💡কীভাবে ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করবেন
মাসিক কিস্তি লিখুন
প্রতি মাসে আপনি কত টাকা জমাতে চান (যেমন: ৫,০০০ টাকা) তা টাইপ করুন।
মেয়াদ ও হার নির্ধারণ করুন
আপনার ডিপিএস-এর মেয়াদ (১ থেকে ১০ বছর) এবং ব্যাংকের বার্ষিক সুদের হার সিলেক্ট করুন।
মুনাফা ও কর বিশ্লেষণ
আপনার মোট জমাকৃত আসল, অর্জিত চক্রবৃদ্ধি সুদ, উৎসে কর (১০% বা ১৫%) এবং মেয়াদ শেষে নিট কত টাকা পাবেন তা দেখুন।
বাংলাদেশ সঞ্চয়
www.bangladeshsavings.com
জেনারেট করা হয়েছে
7 July 2026
ডিপিএস সঞ্চয় প্ল্যান রিপোর্ট
ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব রিপোর্ট
মাসিক কিস্তি
৳৫,০০০.০০
সময়কাল
5 বছর
সুদের হার
11.5%
কর স্ট্যাটাস
TIN সহ (১০%)
মেয়াদ শেষে পাবেন
৳৩,৯৬,১০৭.২৩
মোট বিনিয়োগ
৳৩,০০,০০০.০০
নিট মুনাফা
+৳৯৬,১০৭.২৩
সম্পদ বৃদ্ধি
32.0% বৃদ্ধি
নির্বাচিত মেয়াদে আপনার মোট সম্পদ এই শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
ব্যাংক তুলনা
কিস্তি: ৳৫,০০০.০০ | 5Y| ব্যাংকের নাম | হার | মেয়াদান্তে পাবেন |
|---|---|---|
| গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক | 11.75% | ৳৩,৯৮,৬৩৭.১৪ |
| ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি | 11.5% | ৳৩,৯৬,১০৭.২৩ |
| কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ | 11.5% | ৳৩,৯৬,১০৭.২৩ |
| আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক | 11.5% | ৳৩,৯৬,১০৭.২৩ |
| ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড | 11.5% | ৳৩,৯৬,১০৭.২৩ |
| এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক | 11.5% | ৳৩,৯৬,১০৭.২৩ |
| ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি | 11.5% | ৳৩,৯৬,১০৭.২৩ |
| শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক | 11.25% | ৳৩,৯৩,৫৯৮.৭৫ |
| ওয়ান ব্যাংক পিএলসি | 11% | ৳৩,৯১,১১১.৪৮ |
| এক্সিম ব্যাংক পিএলসি | 11% | ৳৩,৯১,১১১.৪৮ |
| এনআরবি ব্যাংক পিএলসি | 11% | ৳৩,৯১,১১১.৪৮ |
| বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক | 11% | ৳৩,৯১,১১১.৪৮ |
| সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি | 11% | ৳৩,৯১,১১১.৪৮ |
| সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি | 10.85% | ৳৩,৮৯,৬২৯.২২ |
| যমুনা ব্যাংক পিএলসি | 10.75% | ৳৩,৮৮,৬৪৫.২৩ |
| এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি | 10.75% | ৳৩,৮৮,৬৪৫.২৩ |
| স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি | 10.5% | ৳৩,৮৬,১৯৯.৮২ |
| সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) | 10.5% | ৳৩,৮৬,১৯৯.৮২ |
| মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি | 10.5% | ৳৩,৮৬,১৯৯.৮২ |
| মেঘনা ব্যাংক পিএলসি | 10.5% | ৳৩,৮৬,১৯৯.৮২ |
| মধুমতি ব্যাংক পিএলসি | 10.5% | ৳৩,৮৬,১৯৯.৮২ |
| ব্যাংক এশিয়া পিএলসি | 10.25% | ৳৩,৮৩,৭৭৫.০৪ |
| এবি ব্যাংক পিএলসি | 10.25% | ৳৩,৮৩,৭৭৫.০৪ |
| মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি | 10.25% | ৳৩,৮৩,৭৭৫.০৪ |
| মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) | 10% | ৳৩,৮১,৩৭০.৭১ |
| ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি | 10% | ৳৩,৮১,৩৭০.৭১ |
| ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি | 9.75% | ৳৩,৭৮,৯৮৬.৬৫ |
| ডাচ-বাংলা ব্যাংক (ডিবিবিএল) | 9.5% | ৳৩,৭৬,৬২২.৬৬ |
| ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) | 9.5% | ৳৩,৭৬,৬২২.৬৬ |
| প্রাইম ব্যাংক পিএলসি | 9.5% | ৳৩,৭৬,৬২২.৬৬ |
| সোনালী ব্যাংক পিএলসি | 9% | ৳৩,৭১,৯৫৪.১৮ |
| সিটি ব্যাংক | 8.5% | ৳৩,৬৭,৩৬৩.৮২ |
ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) এবং এর গুরুত্ব
ডিপোজিট পেনশন স্কিম (DPS) হলো বাংলাদেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং চাকুরিজীবী মানুষের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ মাধ্যম। দেশের প্রায় সব বাণিজ্যিক ও তফশিলি ব্যাংক এই মাসিক সঞ্চয় স্কিমটি পরিচালনা করে। ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআর (FDR) এর মতো এককালীন বড় অংকের মূলধন বিনিয়োগের পরিবর্তে, ডিপিএস সাধারণ আয়ের মানুষকে প্রতি মাসে ছোট ছোট কিস্তিতে সঞ্চয় করে একটি বড় তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০,০০০+ টাকা পর্যন্ত যেকোনো অংকের কিস্তি ১ থেকে ১০ বছর মেয়াদে জমা রাখার নমনীয়তা রয়েছে ডিপিএস-এ।
মেয়াদপূর্তিতে জমাকৃত মূল আসলের সাথে ব্যাংক ভেদে চক্রবৃদ্ধি সুদের হার হিসাব করে সব টাকা এককালীন বড় তহবিল হিসেবে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়। ডিপিএস আপনার সন্তানের পড়াশোনা, বিয়ে, বা নিজের অবসরের আর্থিক প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভিত্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে সর্বোচ্চ DPS রেট প্রদানকারী ব্যাংকসমূহ (জুন ২০২৬)
বাংলাদেশে ডিপিএস করার ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে সুদের হার ও মেয়াদের কিছুটা পার্থক্য হয়ে থাকে। নিচে জুন ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশের শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের ডিপিএস সুদের হার এবং মেয়াদের তালিকা দেওয়া হলো:
| ব্যাংকের নাম | ডিপিএস স্কিমের নাম | সর্বোচ্চ সুদের হার | মেয়াদ সীমা |
|---|---|---|---|
| কমিউনিটি ব্যাংক (Community Bank) | Regular DPS Scheme | ১১.৫০% | ৩, ৫ ও ১০ বছর |
| ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ (IBBL) | Mudaraba Monthly Savings | ১১.৫০%* | ৩, ৫ ও ১০ বছর |
| ওয়ান ব্যাংক (ONE Bank) | PENSAVE / EDUSAVE | ১১.০০% | ১ থেকে ১০ বছর |
| মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB) | MTB Angona / Standard DPS | ১০.০০% | ৩, ৫ ও ৮ বছর |
| ইস্টার্ন ব্যাংক (EBL) | EBL Multi-purpose DPS | ১০.০০% | ৩ থেকে ১০ বছর |
| ঢাকা ব্যাংক (Dhaka Bank) | Lakhpati DPS Scheme | ৯.৭৫% | ৩, ৫ ও ১০ বছর |
| ব্র্যাক ব্যাংক (BRAC Bank) | General DPS | ৯.৭৫% | ১ থেকে ১০ বছর |
| ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL) | DBBL DPS Scheme | ৯.৫০% | ৩, ৫ ও ১০ বছর |
| ব্যাংক এশিয়া (Bank Asia) | Flexible DPS | ৯.৫০% | ৩ ও ৫ বছর |
| সিটি ব্যাংক (City Bank) | City Shanchay DPS | ৯.২৫% | ১ থেকে ৫ বছর |
*ইসলামী ব্যাংকের ডিপিএস মুনাফার হার সাময়িক (Provisional) এবং তা ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যবসায়িক লাভের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকগুলো সাধারণত স্থায়ী সুদের হার প্রদান করে।
ডিপিএস যেভাবে কাজ করে: হিসাব খোলা ও কিস্তি পরিশোধ
ডিপিএস শুরু করার জন্য আপনাকে যেকোনো ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। হিসাব খোলার সময় আপনার মাসিক কিস্তির পরিমাণ এবং সঞ্চয়ের মেয়াদ চূড়ান্ত করতে হবে। প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে (সাধারণত ১ থেকে ১০ তারিখ) আপনার কিস্তির টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। বর্তমানে যেকোনো বকেয়া জরিমানা বা ঝামেলা এড়াতে ব্যাংকগুলো স্ট্যান্ডিং ইন্সট্রাকশন (SI) বা অটো-ডেবিট প্রক্রিয়া উৎসাহিত করে, যার ফলে আপনার মূল সঞ্চয়ী হিসাব থেকে নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপিএস-এর কিস্তি কেটে নেওয়া হয়।
ডিপিএস চক্রবৃদ্ধি মুনাফার হিসাব সূত্র ও করের নিয়মাবলী
ডিপিএস-এর মুনাফা সাধারণ সুদের নিয়মে হিসাব করা হয় না। প্রতি মাসে টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথে জমাকৃত টাকার ওপর চক্রবৃদ্ধি মুনাফা হিসাব করা হয়। এর মেয়াদপূর্তির মূল্য (MV) গণনার বৈজ্ঞানিক সূত্র নিচে দেওয়া হলো:
MV = P * [ ((1 + i)^n - 1) / i ] * (1 + i) এখানে: P = মাসিক কিস্তির পরিমাণ (যেমন ১০,০০০ টাকা) i = মাসিক মুনাফার হার (বার্ষিক হার / ১২ / ১০০) n = মোট কিস্তির সংখ্যা (বছর সংখ্যা × ১২)একই সাথে, মেয়াদপূর্তিতে অর্জিত মুনাফা বা লাভের ওপর সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী উৎস কর (টিডিএস বা TDS) কাটা হয়ে থাকে:
- বৈধ ই-টিন (e-TIN) থাকলে: অর্জিত মোট লাভের ওপর ১০% উৎস কর কাটা হয়।
- ই-টিন (e-TIN) না থাকলে: অর্জিত মোট লাভের ওপর ১৫% উৎস কর কাটা হয়।
DPS-এর একটি বাস্তব উদাহরণ হিসাব
ডিপিএস-এর চক্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধি কীভাবে কাজ করে তা সহজভাবে বোঝার জন্য একটি বাস্তব গাণিতিক হিসাব দেখা যাক। ধরুন আপনি প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে ৫ বছর (৬০ মাস) মেয়াদে ১১.৫% বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি মুনাফায় একটি ডিপিএস খুললেন।
| বছর | মোট জমাকৃত আসল (Cumulative) | বার্ষিক অর্জিত মুনাফা (Annual Interest) | বছর শেষে মোট ব্যালেন্স |
|---|---|---|---|
| ১ম বছর | ৳৬০,০০০ | ৳৩,৮৬৩ | ৳৬৩,৮৬৩ |
| ২য় বছর | ৳১,২০,০০০ | ৳১১,৩৫৮ | ৳১,৩৫,২২১ |
| ৩য় বছর | ৳১,৮০,০০০ | ৳১৯,৮৩৬ | ৳২,১৫,০৫৭ |
| ৪র্থ বছর | ৳২,৪০,০০০ | ৳২৯,৪০৫ | ৳৩,০৪,৪৬২ |
| ৫ম বছর | ৳৩,০০,০০০ | ৳৩৯,৭৭১ | ৳৪,০৪,২৩৩ |
৫ বছর মেয়াদ শেষে আপনার মোট জমাকৃত আসল হবে ৳৩,০০,০০০ টাকা এবং চক্রবৃদ্ধি মুনাফাসহ মোট মেয়াদপূর্তির মূল্য (ট্যাক্স ছাড়া) হবে ৳৪,০৪,২৩৩ টাকা। অর্থাৎ আপনি মোট মুনাফা পাবেন ৳১,০৪,২৩৩ টাকা।
- ই-টিন (e-TIN) থাকলে (১০% উৎস কর কর্তন): ট্যাক্স কাটা হবে ৳১০,৪২৩ টাকা। মেয়াদপূর্তিতে নিট পাবেন ৳৩,৯৩,৮১০ টাকা।
- ই-টিন (e-TIN) না থাকলে (১৫% উৎস কর কর্তন): ট্যাক্স কাটা হবে ৳১৫,৬৩৫ টাকা। মেয়াদপূর্তিতে নিট পাবেন ৳৩,৮৮,৫৯৮ টাকা।
DPS কখন ভাঙা উচিত নয়
অনেকেই ডিপিএস চালু করার পর সামান্য অর্থের প্রয়োজনে বা হঠকারী সিদ্ধান্তে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ডিপিএস ভেঙে ফেলেন। এটি ব্যক্তিগত অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় ভুল। মেয়াদপূর্তির পূর্বে ডিপিএস ভাঙলে ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদের হার বাতিল করে দেয় এবং শুধুমাত্র সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের (Savings Account) নামমাত্র সুদ (সাধারণত ৩-৪%) প্রদান করে। অনেক ক্ষেত্রে ১ বছরের আগে ডিপিএস ভাঙলে কোনো মুনাফাই পাওয়া যায় না, উপরন্তু অ্যাকাউন্ট ক্লোজিং চার্জ দিতে হয়।
বিশেষ করে ডিপিএস যখন মেয়াদের শেষ পর্যায়ে বা অর্ধেকের বেশি সময় পার করে ফেলে, তখন এটি কোনোভাবেই ভাঙা উচিত নয়। কারণ চক্রবৃদ্ধি মুনাফার আসল সুবিধা পাওয়া যায় মেয়াদের শেষ বছরগুলোতে (যেমন উপরের উদাহরণে দেখা যায়, প্রথম বছর মুনাফা মাত্র ৳৩,৮৬৩ কিন্তু ৫ম বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৳৩৯,৭৭১ টাকা)। মেয়াদপূর্বে ভেঙে ফেললে আপনি এই বিশাল চক্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হবেন এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে আপনার জমাকৃত টাকার ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে।
যদি আপনার খুব জরুরি অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে ডিপিএস না ভেঙে সেটিকে জামানত (Lien) রেখে ব্যাংক থেকে খুব সহজেই লিয়েন লোন (Lien Loan) বা ওভারড্রাফট সুবিধা নিতে পারেন। সাধারণত জমাকৃত মূল্যের ৮০% থেকে ৯০% পর্যন্ত লোন পাওয়া যায়, যার সুদের হার ডিপিএস রেটের চেয়ে মাত্র ২% বেশি হয়ে থাকে। এতে আপনার ডিপিএস চালু থাকে এবং চক্রবৃদ্ধি মুনাফাও অক্ষুণ্ণ থাকে।
DPS বনাম FDR: মূল পার্থক্য
ডিপিএস (DPS) এবং এফডিআর (FDR) উভয়ই ব্যাংকিং খাতের অত্যন্ত জনপ্রিয় সঞ্চয় মাধ্যম। তবে এদের কাজের ধরণ এবং उद्देश्य সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিচে এদের মূল পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | ডিপিএস (DPS) | এফডিআর (FDR) |
|---|---|---|
| বিনিয়োগের ধরণ | প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিস্তিতে জমা দিতে হয় (Recurring)। | এককালীন বড় অংকের টাকা জমা রাখতে হয় (Lump-sum)। |
| উপযুক্ততা | চাকুরিজীবী ও নিয়মিত আয়ের লোকদের জন্য সেরা। | যাদের কাছে অলস অবসরকালীন বা উদ্বৃত্ত অর্থ আছে। |
| मुनाফার হিসাব | মাসিক চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা হিসাব করা হয়। | সাধারণত সরল সুদে বা মেয়াদ শেষে চক্রবৃদ্ধিতে হিসাব হয়। |
| ন্যূনতম অর্থ | ৳৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে শুরু করা সম্ভব। | সাধারণত ন্যূনতম ৳১০,০০০ বা তার বেশি লাগে। |
| কর রেয়াত (Tax Rebate) | বাৎসরিক ৳৬০,০০০ পর্যন্ত জমার ওপর কর রেয়াত পাওয়া যায়। | সরাসরি কোনো আয়কর রেয়াত বা ছাড় পাওয়া যায় না। |
ডিপিএস ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সহজ নির্দেশাবলী
- প্রথমে আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী মাসিক জমার পরিমাণ (কিস্তি) স্লাইডার বা ইনপুট বক্সে সেট করুন।
- আপনার কাঙ্ক্ষিত মেয়াদের বছর (১ থেকে ১০ বছর) নির্বাচন করুন।
- আপনি যে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তার আনুমানিক বার্ষিক সুদের হার টাইপ করুন।
- আপনার ট্যাক্স স্ট্যাটাস (ই-টিন আছে কি নেই) বোতামে ক্লিক করে নির্বাচন করুন।
- সাথে সাথে স্ক্রিনে আপনার মোট বিনিয়োগকৃত আসল, অর্জিত মোট সুদ, উৎস করের পরিমাণ এবং মেয়াদ শেষে নিট কত টাকা পাবেন তার সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন।
ডিপিএস জমার সুবিধা ও অসুবিধা
প্রধান সুবিধাসমূহ:
- সুশৃঙ্খল সঞ্চয় প্রবৃত্তি: প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট টাকা জমা দেওয়ার কারণে আয়ের অপচয় রোধ হয় এবং নিয়মানুবর্তিতা তৈরি হয়।
- স্বল্প পুঁজিতে বড় তহবিল: এককালীন অনেক টাকা না থাকলেও ছোট কিস্তি দিয়েই বড় মেয়াদে মোটা অংকের লাভজনক তহবিল তৈরি করা যায়।
- ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা: নিয়মিত সচল ডিপিএস অ্যাকাউন্টকে সিকিউরিটি বা জামানত দেখিয়ে ব্যাংকের লিয়েন লোন বা ক্রেডিট কার্ড সুবিধা নেওয়া যায়।
প্রধান অসুবিধা ও ঝুঁকি:
- বিলম্ব জরিমানা: কিস্তির টাকা দিতে দেরি হলে ব্যাংকগুলো বকেয়া কিস্তির ওপর বিলম্ব জরিমানা ধার্য করে যা অর্জিত লাভকে কমিয়ে দেয়।
- অকাল বন্ধের উচ্চ জরিমানা: মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ডিপিএস ভেঙে ফেললে ডিপিএস সুদের হার পাওয়া যায় না, ব্যাংক সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের নামমাত্র সুদ প্রদান করে।
বিনিয়োগকারীদের সাধারণ কিছু ভুল
- আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত কিস্তি নির্বাচন: নিজের নিয়মিত মাসিক আয়ের চেয়ে অনেক বড় কিস্তির ডিপিএস খুলে ফেলা, যা পরবর্তীতে চালাতে ব্যর্থ হয়ে বন্ধ করতে হয়।
- ট্যাক্স রিটার্নের স্লিপ জমা না দেওয়া: মেয়াদপূর্তিতে কর অব্যাহতি বা কম কর কাটার জন্য ব্যাংককে প্রয়োজনীয় আয়কর দাখিলের কপি না দেওয়া।
- নমিনি মনোনয়ন অসম্পূর্ণ রাখা: নমিনির সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য, এনআইডি এবং ছবি অ্যাকাউন্ট চালুর সময় প্রদান না করা।
হিসাব খোলার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশী নাগরিক (একক বা যৌথভাবে) এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের পক্ষে তাদের অভিভাবকরা ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
- আবেদনকারীর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের ফটোকপি।
- নমিনির ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম সনদের ফটোকপি।
- আবেদনকারীর ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেটের কপি (১০% উৎস কর সুবিধা পাওয়ার জন্য)।
সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা (অর্থবছর ২০২৫-২৬)
অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর নতুন কর আইন অনুযায়ী, ব্যাংক ডিপিএস-এর মেয়াদপূর্তির মোট মূল্য যদি ১০ লক্ষ টাকা অতিক্রম করে, তবে করদাতার কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (Acknowledgement Receipt) ব্যাংকে জমা দেওয়া বাধ্যতামূল। অন্যথায় ব্যাংক সরকারি কোষাগারে সর্বোচ্চ কর কেটে নিতে বাধ্য থাকবে। একই সাথে ব্যাংক একাউন্টের ওপর নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রদেয় আবগারি শুল্কও আরোপিত হবে।
📈 ডিপিএস দিয়ে সম্পদ বৃদ্ধির কার্যকরী কৌশল ও বাস্তব উদাহরণ
১. ডিপিএস-টু-এফডিআর সুইপ কৌশল (চক্রবৃদ্ধি মুনাফার জাদু)
ডিপিএস মেয়াদপূর্তির পর টাকা খরচ না করে সরাসরি রি-ইনভেস্ট করুন! উদাহরণস্বরূপ, ৫ বছর মেয়াদি ৫,০০০ টাকা মাসিক কিস্তির একটি ডিপিএস মেয়াদ শেষে প্রায় ৪.১ লক্ষ টাকা ফেরত দেয়। আপনি যদি এই ৪.১ লক্ষ টাকা সাথে সাথে ১০.৫% মুনাফায় একটি ৫ বছর মেয়াদি এফডিআর (FDR)-এ রূপান্তর করেন এবং পাশাপাশি নতুন আরেকটি ৫,০০০ টাকার ডিপিএস চালু করেন, তবে পরবর্তী ৫ বছরে আপনার মোট সম্পদের পরিমাণ হবে প্রায় ১১.৮ লক্ষ টাকা! যেখানে দুটি আলাদা ডিপিএস করলে পেতেন মাত্র ৮.২ লক্ষ টাকা। একেই বলে মুনাফার ওপর চক্রবৃদ্ধি মুনাফা তৈরি করা।
২. আয়কর রেয়াত ও ট্যাক্স সাশ্রয় কৌশল
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নিয়ম অনুযায়ী, ডিপিএস-এ বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা (মাসিক ৫,০০০ টাকা) পর্যন্ত বিনিয়োগের ওপর ১৫% পর্যন্ত কর রেয়াত (Tax Rebate) পাওয়া যায়। অর্থাৎ, আপনি যদি মাসিক ৫,০০০ টাকা ডিপিএস করেন, তবে বছর শেষে আপনার প্রদেয় আয়কর সরাসরি ৯,০০০ টাকা কমে যাবে! এটি ব্যাংকের দেওয়া সুদের অতিরিক্ত একটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ১৫% রিটার্ন।
📊 বাস্তব কেস স্টাডি: সন্তানের উচ্চশিক্ষা তহবিল গঠন
গ্রাহক: জনাব তানভীর (কম্পিউটার প্রকৌশলী, ৩২), তিনি তার ২ বছর বয়সী মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তহবিল তৈরি করতে চান।
পরিকল্পনা: তিনি একটি ব্যাংকে ১০.৫% সুদে ১০ বছর মেয়াদী মাসিক ৮,০০০ টাকার একটি ডিপিএস শুরু করেন।
ফলাফল: ১০ বছরে তানভীর মোট ৯,৬০,০০০ টাকা জমা করেন। ১০ বছর পর মাসিক চক্রবৃদ্ধি সুদের কল্যাণে তিনি মোট ১৬,৮৪,২০০ টাকা গ্রস মুনাফাসহ পাবেন। ই-টিআইএন (e-TIN) জমা দেওয়ার কারণে তার উৎসে কর সাশ্রয় হয় ৩৬,২১০ টাকা এবং তিনি নিট ১৬,১১,৭৯০ টাকা হাতে পান — যা তার মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ অনায়াসে পূরণ করে।
ডিপিএস ক্যালকুলেটর FAQ
মাসিক কিস্তি, কিস্তি মিস, ইসলামি মুদারাবা ডিপিএস, কর রেয়াত, লিয়েন লোন, নমিনির নিয়ম এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের ডিপিএস সুবিধা সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নের উত্তর।
১. কোন ব্যাংকে DPS করলে সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাবো?▼
বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং শরীয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলো ডিপিএস-এর ওপর সর্বোচ্চ ১১.০০% থেকে ১১.৫০% পর্যন্ত মুনাফা প্রদান করছে। তবে যেকোনো ডিপিএস খোলার আগে ব্যাংকের আর্থিক স্থায়িত্ব এবং খেলাপি ঋণের হার বিবেচনা করা উচিত।
২. DPS-এ TIN না থাকলে কত কর কাটে?▼
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নিয়ম অনুযায়ী, ডিপিএস মেয়াদপূর্তিতে অর্জিত সুদের ওপর উৎস কর (TDS) কাটা হয়। আপনার যদি একটি বৈধ ই-টিন (e-TIN) থাকে, তবে মুনাফার ওপর ১০% কর কাটা হবে। আর যদি ই-টিন না থাকে, তবে করের হার হবে ১৫%।
৩. মেয়াদের আগে DPS ভাঙলে কত টাকা হারাবো?▼
মেয়াদপূর্তির আগে ডিপিএস ভাঙলে আপনি ডিপিএস-এর জন্য নির্ধারিত উচ্চ সুদের হার পাবেন না। ব্যাংক আপনাকে শুধুমাত্র অতিক্রান্ত সময়ের জন্য ব্যাংকের প্রচলিত সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের (Savings Account) সুদের হারে (৩% থেকে ৪%) মুনাফা প্রদান করবে এবং সাথে প্রাক-পরিপক্কতা জরিমানা কর্তন করা হবে। ১ বছরের কম সময়ে ভাঙলে সাধারণত কোনো মুনাফাই পাওয়া যায় না।
৪. DPS কি সঞ্চয়পত্রের চেয়ে ভালো?▼
সঞ্চয়পত্র সাধারণত এককালীন অর্থ বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং এর মুনাফার হার (১১%+ থেকে ১২%+) ডিপিএস-এর চেয়ে কিছুটা বেশি এবং ১০০% নিরাপদ। তবে যাদের কাছে এককালীন বড় পুঁজি নেই এবং প্রতি মাসে অল্প করে সঞ্চয় করতে চান, তাদের জন্য ডিপিএস (DPS) একটি সুশৃঙ্খল ও সর্বোত্তম মাধ্যম।
৫. একই সাথে কয়টি DPS অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে?▼
একই ব্যক্তি একই ব্যাংকে বা বিভিন্ন ব্যাংকে যত খুশি ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, এর কোনো আইনি সীমাবদ্ধতা নেই। তবে আপনার মোট বার্ষিক জমাকৃত ডিপিএস ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণী আয়কর রিটার্নে সঠিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
৬. DPS-এর মুনাফা কি আয়কর রিটার্নে দেখাতে হবে?▼
হ্যাঁ, ডিপিএস-এর মেয়াদপূর্তিতে অর্জিত যেকোনো মুনাফা আপনার করযোগ্য আয়ের সাথে যুক্ত হবে এবং বাৎসরিক আয়কর রিটার্নে তা প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। ব্যাংক ইতিমধ্যে আপনার মুনাফা থেকে যে উৎস কর (TDS) কেটে রেখেছে, তা আপনি আপনার প্রদেয় মোট করের সাথে সমন্বয় করতে পারবেন।
দায়বদ্ধতা বিবদ্ধতা (ডিপিএস): এই পেজে প্রদর্শিত ডিপিএস মেয়ادপূর্তির মূল্য এবং সুদের প্রত্যাশা স্ট্যান্ডার্ড রিকারিং ডিপোজিট চক্রবৃদ্ধি সূত্র ব্যবহার করে গণনা করা হয়েছে। বাস্তব ব্যাংকের ডিপিএস পেআউট ব্যাংকের নির্দিষ্ট চক্রবৃদ্ধি পদ্ধতি (মাসিক বা ত্রৈমাসিক), বছর শেষে মোট ব্যাল্যান্সের উপর প্রযোজ্য আবগারি শুল্ক এবং দেরি জরিমানার উপর নির্ভর করে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। উৎস কর (TDS) হার বর্তমান এনবিআর নির্দেশিকা অনুসারে প্রদর্শিত এবং তা পরিবর্তিত হতে পারে। BangladeshSavings.com শুধুমাত্র একটি আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি সংবদ্ধ নয়।
অন্যান্য প্রয়োজনীয় আর্থিক টুলস
আবেদন ফরম খুঁজছেন?
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে সরাসরি অফিসিয়াল ক্রয় এবং নগদায়ন ফরম ডাউনলোড করুন।
অফিসিয়াল ফরম দেখুন →