ডিপিএস ক্যালকুলেটর বাংলাদেশ

সঠিকভাবে আপনার সঞ্চয় পরিকল্পনা করুন। বাংলাদেশের সকল প্রধান ব্যাংকের বর্তমান ডিপিএস মুনাফার হার তুলনা করুন এবং আপনার ভবিষ্যতের জন্য সেরা স্কিমটি বেছে নিন।

সর্বশেষ আপডেট: মে ২০২৬
5 বছর
১ বছর৩ বছর৫ বছর৭ বছর১০ বছর

মেয়াদ শেষে পাবেন

৳৩,৯৬,১০৭.২৩

মোট বিনিয়োগ

৳৩,০০,০০০.০০

নিট মুনাফা

+৳৯৬,১০৭.২৩

মোট মুনাফা৳১,০৬,৭৮৫.৮২
কর কর্তন-৳১০,৬৭৮.৫৮
কার্যকরী হার6.41% / year

সম্পদ বৃদ্ধি

32.0% বৃদ্ধি

নির্বাচিত মেয়াদে আপনার মোট সম্পদ এই শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

ব্যাংক তুলনা

কিস্তি: ৳৫,০০০.০০ | 5Y
ব্যাংকের নামহারমেয়াদান্তে পাবেন
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক11.75%৳৩,৯৮,৬৩৭.১৪
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি11.5%৳৩,৯৬,১০৭.২৩
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ11.5%৳৩,৯৬,১০৭.২৩
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক11.5%৳৩,৯৬,১০৭.২৩
ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড11.5%৳৩,৯৬,১০৭.২৩
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক11.5%৳৩,৯৬,১০৭.২৩
ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি11.5%৳৩,৯৬,১০৭.২৩
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক11.25%৳৩,৯৩,৫৯৮.৭৫
ওয়ান ব্যাংক পিএলসি11%৳৩,৯১,১১১.৪৮
এক্সিম ব্যাংক পিএলসি11%৳৩,৯১,১১১.৪৮
এনআরবি ব্যাংক পিএলসি11%৳৩,৯১,১১১.৪৮
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক11%৳৩,৯১,১১১.৪৮
সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি11%৳৩,৯১,১১১.৪৮
সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি10.85%৳৩,৮৯,৬২৯.২২
যমুনা ব্যাংক পিএলসি10.75%৳৩,৮৮,৬৪৫.২৩
এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি10.75%৳৩,৮৮,৬৪৫.২৩
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি10.5%৳৩,৮৬,১৯৯.৮২
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)10.5%৳৩,৮৬,১৯৯.৮২
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি10.5%৳৩,৮৬,১৯৯.৮২
মেঘনা ব্যাংক পিএলসি10.5%৳৩,৮৬,১৯৯.৮২
মধুমতি ব্যাংক পিএলসি10.5%৳৩,৮৬,১৯৯.৮২
ব্যাংক এশিয়া পিএলসি10.25%৳৩,৮৩,৭৭৫.০৪
এবি ব্যাংক পিএলসি10.25%৳৩,৮৩,৭৭৫.০৪
মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি10.25%৳৩,৮৩,৭৭৫.০৪
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)10%৳৩,৮১,৩৭০.৭১
ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি10%৳৩,৮১,৩৭০.৭১
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি9.75%৳৩,৭৮,৯৮৬.৬৫
ডাচ-বাংলা ব্যাংক (ডিবিবিএল)9.5%৳৩,৭৬,৬২২.৬৬
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)9.5%৳৩,৭৬,৬২২.৬৬
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি9.5%৳৩,৭৬,৬২২.৬৬
সোনালী ব্যাংক পিএলসি9%৳৩,৭১,৯৫৪.১৮
সিটি ব্যাংক8.5%৳৩,৬৭,৩৬৩.৮২

ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) এবং এর গুরুত্ব

ডিপোজিট পেনশন স্কিম (DPS) হলো বাংলাদেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং চাকুরিজীবী মানুষের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ মাধ্যম। দেশের প্রায় সব বাণিজ্যিক ও তফশিলি ব্যাংক এই মাসিক সঞ্চয় স্কিমটি পরিচালনা করে। ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআর (FDR) এর মতো এককালীন বড় অংকের মূলধন বিনিয়োগের পরিবর্তে, ডিপিএস সাধারণ আয়ের মানুষকে প্রতি মাসে ছোট ছোট কিস্তিতে সঞ্চয় করে একটি বড় তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,০০,০০০+ টাকা পর্যন্ত যেকোনো অংকের কিস্তি ১ থেকে ১০ বছর মেয়াদে জমা রাখার নমনীয়তা রয়েছে ডিপিএস-এ।

মেয়াদপূর্তিতে জমাকৃত মূল আসলের সাথে ব্যাংক ভেদে চক্রবৃদ্ধি সুদের হার হিসাব করে সব টাকা এককালীন বড় তহবিল হিসেবে গ্রাহককে ফেরত দেওয়া হয়। ডিপিএস আপনার সন্তানের পড়াশোনা, বিয়ে, বা নিজের অবসরের আর্থিক প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভিত্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

বর্তমান ডিপিএস রেট (অর্থবছর ২০২৫-২৬)

Islami Bank (IBBL)

Mudaraba Monthly Savings

11.50%*

Community Bank

Regular DPS Scheme

11.50%

ONE Bank

PENSAVE / EDUSAVE

11.00%

Mutual Trust Bank

MTB Angona / Standard

10.00%

BRAC Bank

General DPS

9.75%

*প্রভিশনাল মুনাফার হার। কনভেনショナル ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট সুদের হার প্রদান করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি ও ব্যাংক নীতি অনুযায়ী এই হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

ডিপিএস যেভাবে কাজ করে: হিসাব খোলা ও কিস্তি পরিশোধ

ডিপিএস শুরু করার জন্য আপনাকে যেকোনো ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। হিসাব খোলার সময় আপনার মাসিক কিস্তির পরিমাণ এবং সঞ্চয়ের মেয়াদ চূড়ান্ত করতে হবে। প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে (সাধারণত ১ থেকে ১০ তারিখ) আপনার কিস্তির টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। বর্তমানে যেকোনো বকেয়া জরিমানা বা ঝামেলা এড়াতে ব্যাংকগুলো **স্ট্যান্ডিং ইন্সট্রাকশন (SI)** বা অটো-ডেবিট প্রক্রিয়া উৎসাহিত করে, যার ফলে আপনার মূল সঞ্চয়ী হিসাব থেকে নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপিএস-এর কিস্তি কেটে নেওয়া হয়।

ডিপিএস চক্রবৃদ্ধি মুনাফার হিসাব সূত্র ও করের নিয়মাবলী

ডিপিএস-এর মুনাফা সাধারণ সুদের নিয়মে হিসাব করা হয় না। প্রতি মাসে টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথে জমাকৃত টাকার ওপর চক্রবৃদ্ধি মুনাফা হিসাব করা হয়। এর মেয়াদপূর্তির মূল্য (MV) গণনার বৈজ্ঞানিক সূত্র নিচে দেওয়া হলো:

MV = P * [ ((1 + i)^n - 1) / i ] * (1 + i) এখানে: P = মাসিক কিস্তির পরিমাণ (যেমন ১০,০০০ টাকা) i = মাসিক মুনাফার হার (বার্ষিক হার / ১২ / ১০০) n = মোট কিস্তির সংখ্যা (বছর সংখ্যা × ১২)

একই সাথে, মেয়াদপূর্তিতে অর্জিত মুনাফা বা লাভের ওপর সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী উৎস কর (টিডিএস বা TDS) কাটা হয়ে থাকে:

  • বৈধ ই-টিন (e-TIN) থাকলে: অর্জিত মোট লাভের ওপর ১০% উৎস কর কাটা হয়।
  • ই-টিন (e-TIN) না থাকলে: অর্জিত মোট লাভের ওপর ১৫% উৎস কর কাটা হয়।

বাস্তব গাণিতিক উদাহরণ: প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা ৫ বছরের জন্য

ধরুন আপনি বার্ষিক ৯% সরল সুদের বিপরীতে ৫ বছরের জন্য (৬০ মাস) প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে একটি ডিপিএস চালু করলেন। তাহলে মেয়াদপূর্তিতে আপনার সম্পূর্ণ গাণিতিক লাভ-ক্ষতির হিসাবটি কেমন হবে তা দেখে নিন:

  1. মোট জমাকৃত মূলধন: ১০,০০০ টাকা × ৬০ মাস = ৬,০০,০০০ টাকা।
  2. চক্রবৃদ্ধি মুনাফাসহ মেয়াদপূর্তির মোট মূল্য (ট্যাক্স ছাড়া): i = ০.০০৭৫ (৯% / ১২ / ১০০) ধরে হিসাব করলে:
    মোট মেয়াদপূর্তির মূল্য = ১০,০০০ × [ ((১.০০৭৫)^৬০ - ১) / ০.০০৭৫ ] × ১.০০৭৫ = ৭,৫৪,২৪১ টাকা।
  3. অর্জিত মোট লাভ বা মুনাফা: ৭,৫৪,২৪১ - ৬,০০,০০০ = ১,৫৪,২৪১ টাকা।
  4. উৎস কর অনুযায়ী নিট রিটার্নের তুলনা:
    • ই-টিন সহ (১০% কর কর্তন): ট্যাক্স ১,৫৪,২৪১ × ১০% = ১৫,৪২৪ টাকা। নিট লাভ = ১,৩৮,৮১৭ টাকা। মোট পাবেন ৭,৩৮,৮১৭ টাকা
    • ই-টিন ছাড়া (১৫% কর কর্তন): ট্যাক্স ১,৫৪,২৪১ × ১৫% = ২৩,১৩৬ টাকা। নিট লাভ = ১,৩১,১০৫ টাকা। মোট পাবেন ৭,৩১,১০৫ টাকা

ডিপিএস ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সহজ নির্দেশাবলী

  1. প্রথমে আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী মাসিক জমার পরিমাণ (কিস্তি) স্লাইডার বা ইনপুট বক্সে সেট করুন।
  2. আপনার কাঙ্ক্ষিত মেয়াদের বছর (১ থেকে ১০ বছর) নির্বাচন করুন।
  3. আপনি যে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তার আনুমানিক বার্ষিক সুদের হার টাইপ করুন।
  4. আপনার **ট্যাক্স স্ট্যাটাস** (ই-টিন আছে কি নেই) বোতামে ক্লিক করে নির্বাচন করুন।
  5. साथে সাথে স্ক্রিনে আপনার মোট বিনিয়োগকৃত আসল, অর্জিত মোট সুদ, উৎস করের পরিমাণ এবং মেয়াদ শেষে নিট কত টাকা পাবেন তার সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন।

ডিপিএস জমার সুবিধা ও অসুবিধা

প্রধান সুবিধাসমূহ:

  • সুশৃঙ্খল সঞ্চয় প্রবৃত্তি: প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট টাকা জমা দেওয়ার কারণে আয়ের অপচয় রোধ হয় এবং নিয়মানুবর্তিতা তৈরি হয়।
  • স্বল্প পুঁজিতে বড় তহবিল: এককালীন অনেক টাকা না থাকলেও ছোট কিস্তি দিয়েই বড় মেয়াদে মোটা অংকের লাভজনক তহবিল তৈরি করা যায়।
  • ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা: নিয়মিত সচল ডিপিএস অ্যাকাউন্টকে সিকিউরিটি বা জামানত দেখিয়ে ব্যাংকের লিয়েন লোন বা ক্রেডিট কার্ড সুবিধা নেওয়া যায়।

প্রধান অসুবিধা ও ঝুঁকি:

  • বিলম্ব জরিমানা: কিস্তির টাকা দিতে দেরি হলে ব্যাংকগুলো বকেয়া কিস্তির ওপর বিলম্ব জরিমানা ধার্য করে যা অর্জিত লাভকে কমিয়ে দেয়।
  • অকাল বন্ধের উচ্চ জরিমানা: মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ডিপিএস ভেঙে ফেললে ডিপিএস সুদের হার পাওয়া যায় না, ব্যাংক সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের নামমাত্র সুদ প্রদান করে।

বিনিয়োগকারীদের সাধারণ কিছু ভুল

  • আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত কিস্তি নির্বাচন: নিজের নিয়মিত মাসিক আয়ের চেয়ে অনেক বড় কিস্তির ডিপিএস খুলে ফেলা, যা পরবর্তীতে চালাতে ব্যর্থ হয়ে বন্ধ করতে হয়।
  • ট্যাক্স রিটার্নের স্লিপ জমা না দেওয়া: মেয়াদপূর্তিতে কর অব্যাহতি বা কম কর কাটার জন্য ব্যাংককে প্রয়োজনীয় আয়কর দাখিলের কপি না দেওয়া।
  • নমিনি মনোনয়ন অসম্পূর্ণ রাখা: নমিনির সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য, এনআইডি এবং ছবি অ্যাকাউন্ট চালুর সময় প্রদান না করা।

হিসাব খোলার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক弹性 বাংলাদেশী নাগরিক (একক বা যৌথভাবে) এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের পক্ষে তাদের অভিভাবকরা ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • আবেদনকারীর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের ফটোকপি।
  • নমিনির ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম সনদের ফটোকপি।
  • আবেদনকারীর ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেটের কপি (১০% উৎস কর সুবিধা পাওয়ার জন্য)।

সর্বশেষ সরকারি নীতিমালা (অর্থবছর ২০২৫-২৬)

অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর নতুন কর আইন অনুযায়ী, ব্যাংক ডিপিএস-এর মেয়াদপূর্তির মোট মূল্য যদি ১০ লক্ষ টাকা অতিক্রম করে, তবে করদাতার কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (Acknowledgement Receipt) ব্যাংকে জমা দেওয়া বাধ্যতামূল। অন্যথায় ব্যাংক সরকারি কোষাগারে সর্বোচ্চ কর কেটে নিতে বাধ্য থাকবে। একই সাথে ব্যাংক একাউন্টের ওপর নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রদেয় আবগারি শুল্কও আরোপিত হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. ডিপিএস-এর মাসিক কিস্তি মিস হলে কী ধরণের জরিমানা দিতে হয়?

কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বেশিরভাগ ব্যাংক মাসিক কিস্তির ১% থেকে ২% পর্যন্ত বিলম্ব ফি বা ফ্ল্যাট ৫০ থেকে ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করে। তবে টানা ৩ থেকে ৬ মাস কিস্তি না দিলে ব্যাংক ডিপিএস বন্ধ করে দিতে পারে।

২. আমি কি একই ব্যাংকে একাধিক ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারি?

হ্যাঁ, আপনি একই ব্যাংকে অথবা একাধিক ব্যাংকে পৃথক পৃথক ডিপিএস স্কিম চালু করতে পারেন। তবে বার্ষিক ট্যাক্স ফাইলিংয়ে আপনার সব ডিপিএস-এর মোট লভ্যাংশ ও আসল প্রদর্শন করতে হবে।

৩. ইসলামী ব্যাংকের শরীয়াহভিত্তিক ডিপিএস কীভাবে হিসাব করা হয়?

ইসলামী ব্যাংকের ডিপিএসগুলো **মুদারাবা** নীতিতে পরিচালিত হয়। এতে সুদের হার পূর্বনির্ধারিত থাকে না। ব্যাংক একটি অস্থায়ী মুনাফার অনুপাত নির্ধারণ করে এবং মেয়াদ শেষে অর্জিত বাস্তব ব্যবসায়িক লাভের অংশ গ্রাহকদের বণ্টন করে।

৪. ডিপিএস-এর বিপরীতে ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম কী?

হ্যাঁ, আপনি আপনার জমাকৃত ডিপিএস-এর টাকার ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক থেকে লোন বা ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেন। সাধারণত জমাকৃত মূলধনের ৮০% থেকে ৯০% পর্যন্ত লোন পাওয়া যায়, যার সুদের হার ডিপিএস রেটের চেয়ে ২-৩% বেশি হয়ে থাকে।

৫. আমি কি আমার ডিপিএস অন্য কোনো ব্যাংকে স্থানান্তরিত করতে পারি?

না, সচল ডিপিএস সরাসরি অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করার কোনো নিয়ম নেই। স্থানান্তর করতে চাইলে আপনাকে পূর্বের ডিপিএস অ্যাকাউন্টটি ভেঙে ফেলতে হবে এবং নতুন ব্যাংকে নতুন করে ডিপিএস শুরু করতে হবে।

৬. ডিপিএস চলাকালীন মূল অ্যাকাউন্টধারী মারা গেলে নমিনি কী সুবিধা পাবেন?

মূল সঞ্চয়কারীর মৃত্যু হলে মনোনীত নমিনি হিসাবটির সম্পূর্ণ দাবিদার হবেন। নমিনি যদি নাবালক হন, তবে একাউন্ট খোলার সময় নির্ধারিত আইনি অভিভাবক টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৭. ডিপিএস জমার ওপর কি কোনো আয়কর ছাড় (Tax Rebate) পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, এনবিআর এর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বছরে সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিপিএস-এ বিনিয়োগ করলে আপনি আয়কর রেয়াত বা কর ছাড়ের দাবি করতে পারবেন, যা আপনার মোট প্রদেয় আয়কর কমাতে সাহায্য করবে।

৮. প্রবাসীরা (NRB) কি ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন?

হ্যাঁ, প্রবাসী বাংলাদেশীরা সরাসরি ব্যাংকে বা অনলাইনের মাধ্যমে ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। প্রবাস থেকে ব্যাংকিং চ্যানেল বা ওয়েজ আর্নার্স রেমিটেন্সের মাধ্যমে এই কিস্তির টাকা সরাসরি পরিশোধ করা সম্ভব।