এফডিআর রেট তুলনা ২০২৬

বাংলাদেশের সকল প্রধান ব্যাংকের সর্বশেষ এফডিআর মুনাফার হার তুলনা করুন। আমাদের স্মার্ট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে ট্যাক্স কাটার পর সঠিক ম্যাচুরিটি ভ্যালু হিসাব করুন।

সর্বশেষ আপডেট: মে ২০২৬

💡কীভাবে ক্যালকুলেটরটি ব্যবহার করবেন

Step 1 / 3

আসল টাকা লিখুন

আপনি ব্যাংকে এককালীন কত টাকা জমা রাখতে চান (আসল টাকা) তা টাইপ করুন।

Step 2 / 3

সুদের হার ও মেয়াদ দিন

ব্যাংকের বার্ষিক সুদের হার এবং কত সময়ের জন্য (মাস বা বছর) রাখছেন তা সিলেক্ট করুন।

Step 3 / 3

নিট রিটার্ন দেখুন

আপনার মোট অর্জিত সুদ, ই-টিআইএন অনুযায়ী উৎসে কর কর্তন এবং মেয়াদ শেষে প্রাপ্ত নিট টাকা হিসাব করুন।

🏦বিনিয়োগের বিবরণ

আমার TIN সার্টিফিকেট আছে

মোট ম্যাচিউরিটি ভ্যালু

১,০৯,৪৫০৳

মোট নিট মুনাফা

৯,৪৫০৳

ট্যাক্স কর্তন

১,০৫০৳

মোট মুনাফা

১০,৫০০৳

মাসিক সমতুল্য

৭৮৮৳

ট্যাক্স হার

১০%

ব্যাংক ভিত্তিক এফডিআর তুলনা

সকল প্রধান ব্যাংকে ৳১,০০,০০০ জমার ১ বছরের রিটার্ন তুলনা করুন।

আপডেট: মে ২০২৬
ব্যাংকের নামহার (%)ম্যাচিউরিটি (১ বছর)নিট মুনাফা
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সাময়িক হার।
১০.৭৫%১,০৯,৬৭৫৳+৯,৬৭৫৳
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি
মুদারাবা টার্ম ডিপোজিটের জন্য সাময়িক মুনাফার হার।
১০.৫%১,০৯,৪৫০৳+৯,৪৫০৳
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ
১ বছর মেয়াদের জন্য অন্যতম সেরা হার।
১০.৫%১,০৯,৪৫০৳+৯,৪৫০৳
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
শক্তিশালী শরীয়াহ-সম্মত রিটার্ন।
১০.৫%১,০৯,৪৫০৳+৯,৪৫০৳
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক
উচ্চ সাময়িক মুনাফা বন্টন।
১০.৫%১,০৯,৪৫০৳+৯,৪৫০৳
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক
উচ্চ রিটার্নের সাথে আধুনিক ব্যাংকিং।
১০.৫%১,০৯,৪৫০৳+৯,৪৫০৳
ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি
এফডিআর-এ সাময়িক মুনাফা বন্টন।
১০.৫%১,০৯,৪৫০৳+৯,৪৫০৳
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
নতুন গ্রাহকদের জন্য উচ্চ রিটার্ন।
১০.৫%১,০৯,৪৫০৳+৯,৪৫০৳
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)
বিশেষায়িত রিটেইল এফডিআর-এর জন্য উচ্চতর হার।
১০.২৫%১,০৯,২২৫৳+৯,২২৫৳
এক্সিম ব্যাংক পিএলসি
শরীয়াহ ভিত্তিক টার্ম ডিপোজিট স্কিম।
১০.২৫%১,০৯,২২৫৳+৯,২২৫৳
সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি
প্রতিযোগিতামূলক হারের সাথে আধুনিক সেবা।
১০.২৫%১,০৯,২২৫৳+৯,২২৫৳
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)
টার্ম ডিপোজিটের ওপর সাময়িক মুনাফার হার।
১০%১,০৯,০০০৳+৯,০০০৳
এনআরবি ব্যাংক পিএলসি
এনআরবি এবং স্থানীয়দের জন্য আকর্ষণীয় হার।
১০%১,০৯,০০০৳+৯,০০০৳
এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি
প্রতিযোগিতামূলক টার্ম ডিপোজিট পণ্য।
১০%১,০৯,০০০৳+৯,০০০৳
যমুনা ব্যাংক পিএলসি
নমনীয় ফিক্সড ডিপোজিট অপশন।
৯.৮৫%১,০৮,৮৬৫৳+৮,৮৬৫৳
মধুমতি ব্যাংক পিএলসি
ব্যক্তিদের জন্য নির্ভরযোগ্য রিটার্ন।
৯.৮৫%১,০৮,৮৬৫৳+৮,৮৬৫৳
মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি
সকল জমার পরিমাণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক হার।
৯.৭৫%১,০৮,৭৭৫৳+৮,৭৭৫৳
ওয়ান ব্যাংক পিএলসি
জমার স্ল্যাবের ওপর ভিত্তি করে টায়ার্ড রেট।
৯.৭৫%১,০৮,৭৭৫৳+৮,৭৭৫৳
ব্যাংক এশিয়া পিএলসি
সবার জন্য উদ্ভাবনী ডিপোজিট পণ্য।
৯.৭৫%১,০৮,৭৭৫৳+৮,৭৭৫৳
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি
সঞ্চয়কারীদের জন্য ধারাবাহিক সুদের হার।
৯.৭৫%১,০৮,৭৭৫৳+৮,৭৭৫৳
সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি
২০২৬ সালের জন্য প্রতিযোগিতামূলক এফডিআর হার।
৯.৭৫%১,০৮,৭৭৫৳+৮,৭৭৫৳
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি
মেয়াদ এবং পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে টায়ার্ড রেট।
৯.৭৫%১,০৮,৭৭৫৳+৮,৭৭৫৳
মেঘনা ব্যাংক পিএলসি
নিরাপদ এবং সুরক্ষিত ফিক্সড ডিপোজিট।
৯.৭৫%১,০৮,৭৭৫৳+৮,৭৭৫৳
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)
ব্যক্তিদের জন্য টায়ার্ড সুদের কাঠামো।
৯.৫%১,০৮,৫৫০৳+৮,৫৫০৳
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি
স্বল্প থেকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য নির্ভরযোগ্য রিটার্ন।
৯.৫%১,০৮,৫৫০৳+৮,৫৫০৳
ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি
ডিফেন্স পার্সোনেলদের জন্য বিশেষ হার।
৯.৫%১,০৮,৫৫০৳+৮,৫৫০৳
ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি
জমার পরিমাণের স্ল্যাব অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
৯.২৫%১,০৮,৩২৫৳+৮,৩২৫৳
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)
প্রিমিয়াম ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং হার।
৯.২৫%১,০৮,৩২৫৳+৮,৩২৫৳
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি
রিটেইল ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য আপডেটেড রেট।
%১,০৮,১০০৳+৮,১০০৳
সিটি ব্যাংক পিএলসি
বিভিন্ন কাস্টমার সেগমেন্টের জন্য টায়ার্ড রেট।
৮.৭৫%১,০৭,৮৭৫৳+৭,৮৭৫৳
ডাচ-বাংলা ব্যাংক (ডিবিবিএল)
ব্যাপক সহজলভ্যতার সাথে স্থিতিশীল রিটার্ন।
৮.৫%১,০৭,৬৫০৳+৭,৬৫০৳
সোনালী ব্যাংক পিএলসি
নির্ভরযোগ্য রিটার্নের সাথে সরকারি নিরাপত্তা।
৮.৫%১,০৭,৬৫০৳+৭,৬৫০৳

FDR (স্থায়ী আমানত) এবং এর গুরুত্ব

স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট (FDR) হলো বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নিরাপদ একটি বিনিয়োগ মাধ্যম। এটি এমন একটি সঞ্চয় ব্যবস্থা যেখানে বিনিয়োগকারী তার অলস অর্থ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যাংকে জমা রাখেন এবং মেয়াদ শেষে আসল টাকার সাথে নির্ধারিত হারে মুনাফা লাভ করেন। ডিপিএস (DPS) এর মতো প্রতি মাসে কিস্তি দেওয়ার ঝামেলা না থাকায়, যাদের কাছে এককালীন অলস অর্থ রয়েছে, তাদের জন্য এফডিআর একটি আদর্শ বিনিয়োগ পছন্দ।

বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন মেয়াদে (যেমন ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর বা তার বেশি) এফডিআর করার সুবিধা দিয়ে থাকে। এফডিআরের সুদের হার সাধারণত সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হয়। এটি অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবী, প্রবাসী এবং গৃহিণীদের জন্য আয়ের একটি চমৎকার ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।

বর্তমানে সর্বোচ্চ FDR রেট প্রদানকারী ব্যাংকসমূহ (জুন ২০২৬)

জুন ২০২৬ সালের সর্বশেষ ব্যাংকিং তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআরের ওপর সেরা ১০টি ব্যাংকের সুদের হারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

ব্যাংকের নাম৩ মাসের রেট৬ মাসের রেট১ বছরের রেট
এবি ব্যাংক (AB Bank)১০.৫০%১১.০০%১১.৫০%
ওয়ান ব্যাংক (ONE Bank)১০.২৫%১০.৭৫%১১.২৫%
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (SIBL)১০.০০%*১০.৫০%*১১.০০%*
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB)১০.০০%১০.৫০%১১.০০%
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক৯.৭৫%*১০.২৫%*১০.৭৫%*
আইএফআইসি ব্যাংক (IFIC Bank)৯.৫০%১০.০০%১০.৫০%
ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL)৯.২৫%৯.৭৫%১০.২৫%
ব্র্যাক ব্যাংক (BRAC Bank)৯.০০%৯.৫০%১০.০০%
ইস্টার্ন ব্যাংক (EBL)৯.০০%৯.২৫% থেকে ৯.৫০%১০.০০%
প্রাইম ব্যাংক (Prime Bank)৮.৭৫%৯.২৫%৯.৭৫%

*স্টার চিহ্নিত ইসলামী ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশের হার প্রভিশনাল বা সাময়িক এবং ব্যাংকের প্রকৃত ব্যবসায়িক মুনাফার ওপর ভিত্তি করে বছর শেষে চূড়ান্ত হয়।

FDR-এর একটি সম্পূর্ণ হিসাবের উদাহরণ

স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ করার আগে মেয়াদ শেষে কত টাকা লাভ পাওয়া যাবে এবং কত কর কাটা হবে, তা আগে থেকেই জেনে রাখা ভালো। নিচে একটি সম্পূর্ণ হিসাবের বাস্তব উদাহরণ দেওয়া হলো:

বিনিয়োগের বিবরণ:

  • এককালীন বিনিয়োগের পরিমাণ (আসল): ৳৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ টাকা)
  • বিনিয়োগের সময়কাল: ১ বছর (১২ মাস)
  • বার্ষিক সুদের হার: ১০.৫% (সরল সুদ)

১ বছর মেয়াদ শেষে লভ্যাংশের বিবরণ:

  1. গ্রস বা মোট সুদের পরিমাণ: ৳৫,০০,০০০ × ১০.৫% = ৳৫২,৫০০ টাকা।
  2. বৈধ e-TIN সার্টিফিকেট থাকলে (১০% উৎস কর কর্তন):
    উৎস কর (TDS) = ৳৫২,৫০০ × ১০% = ৳৫,২৫০ টাকা।
    ট্যাক্স কাটার পর নিট মুনাফা = ৳৫২,৫০০ - ৳৫,২৫০ = ৳৪৭,২৫০ টাকা।
    মেয়اد শেষে আপনি মোট ফেরত পাবেন: ৳৫,০০,০০০ (আসল) + ৳৪৭,২৫০ (নিট মুনাফা) = ৳৫,৪৭,২৫০ টাকা
  3. বৈধ e-TIN সার্টিফিকেট না থাকলে (১৫% উৎস কর কর্তন):
    উৎস কর (TDS) = ৳৫২,৫০০ × ১৫% = ৳৭,৮৭৫ টাকা।
    ট্যাক্স কাটার পর নিট মুনাফা = ৳৫২,৫০০ - ৳৭,৮৭৫ = ৳৪৪,৬২৫ টাকা।
    মেয়াদ শেষে আপনি মোট ফেরত পাবেন: ৳৫,০০,০০০ (আসল) + ৳৪৪,৬২৫ (নিট মুনাফা) = ৳৫,৪৪,৬২৫ টাকা

নিয়মিত আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে e-TIN সার্টিফিকেট ব্যবহার করা অত্যন্ত উপকারী।

FDR ভাঙার নিয়ম ও জরিমানা

এফডিআর একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য করা হলেও, জরুরি চিকিৎসা বা পারিবারিক সংকটের কারণে বিনিয়োগকারী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটি ভেঙে ফেলতে পারেন। তবে মেয়াদপূর্তির আগে এফডিআর ভাঙলে ব্যাংকগুলো কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানা আরোপ করে।

প্রথমত, ৩ মাসের আগে এফডিআর ভাঙলে কোনো মুনাফা পাওয়া যায় না। প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, যদি আপনি এফডিআর খোলার ৯০ দিন বা ৩ মাসের মধ্যে এটি বন্ধ করতে চান, তবে ব্যাংক আপনাকে কোনো সুদ প্রদান করবে না। আপনি শুধু আপনার জমাকৃত আসল টাকা ফেরত পাবেন।

দ্বিতীয়ত, ৩ মাস পর কিন্তু মেয়াদের আগে ভাঙলে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের সুদে লাভ দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ১০.৫% সুদে ১ বছরের জন্য এফডিআর করেন এবং তা ৮ মাস বয়সে ভেঙে ফেলেন, তবে ব্যাংক আপনাকে ১০.৫% হারে সুদ দেবে না। তারা আপনাকে ওই ৮ মাসের জন্য ব্যাংকের প্রচলিত সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের সুদের হারে (যা সাধারণত ৩-৪%) মুনাফা দেবে। উপরন্তু, এই সঞ্চয়ী সুদের ওপরও ব্যাংকভেদে ১% থেকে ২% পর্যন্ত প্রাক-পরিপক্কতা জরিমানা (Premature Encashment Penalty) কাটা হতে পারে।

অতএব, এফডিআর ভাঙার আগে সর্বদা হিসাব করে দেখা উচিত যে সাময়িক প্রয়োজনে এফডিআর ভেঙে ফেলা লাভজনক, নাকি এফডিআরকে লিয়েন (Lien) বা জামানত রেখে ব্যাংক থেকে ওভারড্রাফট (OD) লোন নেওয়া বেশি সাশ্রয়ী। ওভারড্রাফট লোনের সুদের হার সাধারণত এফডিআর রেটের চেয়ে মাত্র ২% বেশি হয় এবং এতে আপনার মূল এফডিআরের উচ্চ সুদ অক্ষুণ্ণ থাকে।

FDR বনাম সঞ্চয়পত্র: কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত?

এফডিআর এবং সরকারি সঞ্চয়পত্র উভয়ই এককালীন অর্থ বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম। তবে এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে যা আপনার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে:

বৈশিষ্ট্যএফডিআর (FDR)সঞ্চয়পত্র (Sanchayapatra)
ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষবাণিজ্যিক ও তফশিলি ব্যাংকসমূহ।বাংলাদেশ সরকার (জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো)।
मुनाফার হারসাধারণত ৯% থেকে ১১.৫০% (ব্যাংকভেদে)।৯.২% থেকে ১২.৮৮% (সাধারণত ব্যাংকের চেয়ে বেশি)।
বিনিয়োগের মেয়াদ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর বা তদুর্ধ্ব (নমনীয়)।সাধারণত ৩ বছর বা ৫ বছর মেয়াদী (দীর্ঘমেয়াদী)।
নিরাপত্তা ও ঝুঁকিব্যাংকের আর্থিক সচ্ছলতার ওপর নির্ভর করে।১০০% সরকার গ্যারান্টিযুক্ত, কোনো ঝুঁকি নেই।
উত্তোলন ও লিকুইডিটিজরুরি প্রয়োজনে যেকোনো কার্যদিবসে দ্রুত ভাঙা যায়।ভাঙার প্রক্রিয়া তুলনামূলক জটিল ও দীর্ঘ সময় লাগে।

সিদ্ধান্ত নির্দেশিকা: আপনার কাছে যদি ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য অলস টাকা থাকে এবং সর্বোচ্চ নিরাপদ ও বেশি লাভ চান, তবে সঞ্চয়পত্র সেরা। আর যদি আপনার যেকোনো সময় টাকার প্রয়োজন হতে পারে এমন আশঙ্কা থাকে এবং কম মেয়াদের জন্য (যেমন ৩ বা ৬ মাস) টাকা রাখতে চান, তবে এফডিআর আপনার জন্য উপযুক্ত।

📈 এফডিআর (FDR) দিয়ে মুনাফা বৃদ্ধির কার্যকরী কৌশল ও বাস্তব উদাহরণ

১. এফডিআর ল্যাডারিং কৌশল (তারল্য + সর্বোচ্চ লভ্যাংশ)

আপনার ১০ লক্ষ টাকা এককালীন একটি ৩ বছর মেয়াদী এফডিআর-এ লক না করে, এটিকে ৩ ভাগে ভাগ করুন: ৩ লক্ষ টাকা ১ বছর মেয়াদী এফডিআর, ৩ লক্ষ টাকা ২ বছর মেয়াদী এফডিআর, এবং ৪ লক্ষ টাকা ৩ বছর মেয়াদী এফডিআর। প্রতি বছর যখন একটি করে এফডিআর ম্যাচিওর হবে, আপনার প্রয়োজন হলে টাকাটি ব্যবহার করতে পারবেন, আর প্রয়োজন না থাকলে সেটিকে আবার নতুন ৩ বছরের এফডিআর-এ রূপান্তর করবেন। এর ফলে আপনি প্রতি ১২ মাস পর পর প্রয়োজনীয় নগদ টাকা (Liquidity) হাতে পাবেন এবং একই সাথে দীর্ঘমেয়াদের সর্বোচ্চ সুদের হারও উপভোগ করতে পারবেন।

২. অটো-রিনিউয়াল বা স্বয়ংক্রিয় নবায়নের ফাঁদ এড়ান

বেশিরভাগ ব্যাংক এফডিআর খোলার সময় ডিফল্টভাবে "অটো-রিনিউয়াল" অপশনটি চালু করে দেয়। এটি সুবিধাজনক হলেও আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সুদের হার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। আপনার এফডিআর মেয়াদপূর্তির সময় আমাদের তুলনা তালিকা দেখে সবচেয়ে বেশি সুদ দেওয়া ব্যাংকটি নির্বাচন করুন এবং ম্যানুয়ালি টাকা স্থানান্তর করুন। এতে আপনি খুব সহজেই অতিরিক্ত ১.৫% থেকে ২% বেশি মুনাফা পেতে পারেন (যেমন ৫ লক্ষ টাকার এফডিআর-এ বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১০,০০০ টাকা মুনাফা)।

📊 বাস্তব কেস স্টাডি: আপদকালীন বা ইমার্জেন্সি ফান্ড ব্যবস্থাপনা

গ্রাহক: মিসেস জাহানারা (৪২), একজন স্কুল শিক্ষিকা। একটি জমি বিক্রি থেকে তিনি ৪০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তিনি এই টাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ রেখে মাসিক ভালো আয় নিশ্চিত করতে চান।
পরিকল্পনা: তিনি তার ৪০ লক্ষ টাকাকে বিভক্ত করেন। ৩০ লক্ষ টাকা তিনি সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য ৩-মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন এবং বাকি ১০ লক্ষ টাকা জরুরি ফান্ডের জন্য একটি ভালো মানের বেসরকারি ব্যাংকে ৬-মাস মেয়াদী এফডিআর-এ রাখেন।
ফলাফল: এই ১০ লক্ষ টাকার এফডিআর তার আপদকালীন অর্থ হিসেবে কাজ করে। প্রতি ৬ মাস পর পর এটি ম্যাচিওর হয়, ফলে কোনো জরিমানা ছাড়াই প্রয়োজনে টাকা তোলার সুযোগ থাকে। ১০% সুদের হারে প্রতি ৬ মাসে তিনি ৫০,০০০ টাকা গ্রস মুনাফা পান। ই-টিআইএন (e-TIN) জমা দেওয়ার কারণে ১০% উৎসে কর কেটে তার নিট লাভ হয় ৪৫,০০০ টাকা — যা তার সংসার পরিচালনায় দারুণ সাহায্য করে।

এফডিআর FAQ

স্থায়ী আমানতের মুনাফা অর্জন, কর কর্তন এবং শরীয়াহভিত্তিক এফডিআর সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর।

১. FDR-এ কি মাসে মাসে মুনাফা পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, বাংলাদেশের প্রায় সব ব্যাংকেই ফিক্সড ডিপোজিটের বিপরীতে প্রতি মাসে বা প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর মুনাফা উত্তোলনের বিশেষ স্কিম রয়েছে। একে সাধারণত "Monthly Income Scheme" বা "Quarterly Income Scheme" বলা হয়। তবে এ জাতীয় স্কিমে মেয়াদ শেষে এককালীন মুনাফা পাওয়ার চেয়ে সুদের হার কিছুটা কম হতে পারে।

২. FDR রেট কি পরিবর্তন হয়?

আপনি যখন নির্দিষ্ট সুদের হারে একটি এফডিআর একাউন্ট খুলবেন, তখন পুরো মেয়াদের জন্য আপনার সুদের হার ফিক্সড বা অপরিবর্তিত থাকবে, এমনকি দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং রেট কমে গেলেও। তবে মেয়াদ শেষে যখন আপনি এফডিআরটি রিনিউ (নবায়ন) করবেন, তখন ওই সময়ে ব্যাংকের যে নতুন রেট থাকবে, সেই রেট আপনার নতুন মেয়াদের ওপর প্রযোজ্য হবে।

৩. FDR ভাঙলে কি সম্পূর্ণ মুনাফা পাবো?

না, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এফডিআর ভাঙলে আপনি এফডিআর খোলার সময় নির্ধারিত সম্পূর্ণ সুদের হার পাবেন না। ব্যাংক আপনাকে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের নামমাত্র সুদে (৩-৪%) লভ্যাংশ হিসাব করবে এবং ব্যাংকভেদে প্রাক-পরিপক্কতা জরিমানা হিসেবে ১% পর্যন্ত সুদ কেটে রাখতে পারে।

৪. কোন মেয়াদে FDR করলে সবচেয়ে বেশি সুদ পাওয়া যায়?

সাধারণত ১ বছর বা তার বেশি মেয়াদের (যেমন ২ বা ৩ বছর) ফিক্সড ডিপোজিটে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি সুদের হার অফার করে থাকে। ৩ মাস বা ৬ মাসের স্বল্পমেয়াদী এফডিআরের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হয়।

৫. FDR কি আয়কর রেয়াত পাওয়ার যোগ্য?

না, সাধারণ ব্যাংক এফডিআরের বিপরীতে সরাসরি কোনো আয়কর রেয়াত বা ট্যাক্স রিবেট পাওয়া যায় না। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, শুধুমাত্র সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস (বছরে সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত), জীবন বিমা প্রিমিয়াম এবং বিএসইসি অনুমোদিত মিউচুয়াল ফান্ড বা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াত পাওয়া যায়।

৬. ইসলামী ব্যাংকে FDR করা কি হালাল?

ইসলামী ব্যাংকগুলো তাদের স্থায়ী আমানত স্কিমগুলো মুদারাবা (Mudaraba Term Deposit) শরীয়াহ নীতি অনুযায়ী পরিচালনা করে। এখানে সুদের হার ফিক্সড বা নিশ্চিত থাকে না। ব্যাংক গ্রাহকের অলস টাকা শরীয়াহসম্মত ব্যবসায় খাটায় এবং অর্জিত বাস্তব মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অনুপাত (যেমন ৬৫:৩৫) অনুযায়ী লাভ বণ্টন করে। শরীয়াহ বোর্ডের কঠোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় এটিকে ইসলামিক ফিকহবিদগণ হালাল বলে মনে করেন।