এফডিআর রেট তুলনা ২০২৬
বাংলাদেশের সকল প্রধান ব্যাংকের সর্বশেষ এফডিআর মুনাফার হার তুলনা করুন। আমাদের স্মার্ট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে ট্যাক্স কাটার পর সঠিক ম্যাচুরিটি ভ্যালু হিসাব করুন।
বাংলাদেশ সঞ্চয়
www.bangladeshsavings.com
জেনারেট করা হয়েছে
23 May 2026
এফডিআর হিসাব রিপোর্ট
ব্যক্তিগত আর্থিক হিসাব রিপোর্ট
🏦বিনিয়োগের বিবরণ
প্রাথমিক জমা
১,০০,০০০৳
সময়কাল
১ বছর
সুদের হার
10.5%
TIN স্ট্যাটাস
TIN সহ (১০% কর)
মোট ম্যাচিউরিটি ভ্যালু
১,০৯,৪৫০৳
মোট নিট মুনাফা
৯,৪৫০৳
ট্যাক্স কর্তন
১,০৫০৳
মোট মুনাফা
১০,৫০০৳
মাসিক সমতুল্য
৭৮৮৳
ট্যাক্স হার
১০%
ব্যাংক ভিত্তিক এফডিআর তুলনা
সকল প্রধান ব্যাংকে ৳১,০০,০০০ জমার ১ বছরের রিটার্ন তুলনা করুন।
| ব্যাংকের নাম | হার (%) | ম্যাচিউরিটি (১ বছর) | নিট মুনাফা |
|---|---|---|---|
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সাময়িক হার। | ১০.৭৫% | ১,০৯,৬৭৫৳ | +৯,৬৭৫৳ |
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি মুদারাবা টার্ম ডিপোজিটের জন্য সাময়িক মুনাফার হার। | ১০.৫% | ১,০৯,৪৫০৳ | +৯,৪৫০৳ |
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ ১ বছর মেয়াদের জন্য অন্যতম সেরা হার। | ১০.৫% | ১,০৯,৪৫০৳ | +৯,৪৫০৳ |
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক শক্তিশালী শরীয়াহ-সম্মত রিটার্ন। | ১০.৫% | ১,০৯,৪৫০৳ | +৯,৪৫০৳ |
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক উচ্চ সাময়িক মুনাফা বন্টন। | ১০.৫% | ১,০৯,৪৫০৳ | +৯,৪৫০৳ |
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক উচ্চ রিটার্নের সাথে আধুনিক ব্যাংকিং। | ১০.৫% | ১,০৯,৪৫০৳ | +৯,৪৫০৳ |
ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি এফডিআর-এ সাময়িক মুনাফা বন্টন। | ১০.৫% | ১,০৯,৪৫০৳ | +৯,৪৫০৳ |
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক নতুন গ্রাহকদের জন্য উচ্চ রিটার্ন। | ১০.৫% | ১,০৯,৪৫০৳ | +৯,৪৫০৳ |
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) বিশেষায়িত রিটেইল এফডিআর-এর জন্য উচ্চতর হার। | ১০.২৫% | ১,০৯,২২৫৳ | +৯,২২৫৳ |
এক্সিম ব্যাংক পিএলসি শরীয়াহ ভিত্তিক টার্ম ডিপোজিট স্কিম। | ১০.২৫% | ১,০৯,২২৫৳ | +৯,২২৫৳ |
সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি প্রতিযোগিতামূলক হারের সাথে আধুনিক সেবা। | ১০.২৫% | ১,০৯,২২৫৳ | +৯,২২৫৳ |
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) টার্ম ডিপোজিটের ওপর সাময়িক মুনাফার হার। | ১০% | ১,০৯,০০০৳ | +৯,০০০৳ |
এনআরবি ব্যাংক পিএলসি এনআরবি এবং স্থানীয়দের জন্য আকর্ষণীয় হার। | ১০% | ১,০৯,০০০৳ | +৯,০০০৳ |
এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি প্রতিযোগিতামূলক টার্ম ডিপোজিট পণ্য। | ১০% | ১,০৯,০০০৳ | +৯,০০০৳ |
যমুনা ব্যাংক পিএলসি নমনীয় ফিক্সড ডিপোজিট অপশন। | ৯.৮৫% | ১,০৮,৮৬৫৳ | +৮,৮৬৫৳ |
মধুমতি ব্যাংক পিএলসি ব্যক্তিদের জন্য নির্ভরযোগ্য রিটার্ন। | ৯.৮৫% | ১,০৮,৮৬৫৳ | +৮,৮৬৫৳ |
মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি সকল জমার পরিমাণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক হার। | ৯.৭৫% | ১,০৮,৭৭৫৳ | +৮,৭৭৫৳ |
ওয়ান ব্যাংক পিএলসি জমার স্ল্যাবের ওপর ভিত্তি করে টায়ার্ড রেট। | ৯.৭৫% | ১,০৮,৭৭৫৳ | +৮,৭৭৫৳ |
ব্যাংক এশিয়া পিএলসি সবার জন্য উদ্ভাবনী ডিপোজিট পণ্য। | ৯.৭৫% | ১,০৮,৭৭৫৳ | +৮,৭৭৫৳ |
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি সঞ্চয়কারীদের জন্য ধারাবাহিক সুদের হার। | ৯.৭৫% | ১,০৮,৭৭৫৳ | +৮,৭৭৫৳ |
সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি ২০২৬ সালের জন্য প্রতিযোগিতামূলক এফডিআর হার। | ৯.৭৫% | ১,০৮,৭৭৫৳ | +৮,৭৭৫৳ |
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি মেয়াদ এবং পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে টায়ার্ড রেট। | ৯.৭৫% | ১,০৮,৭৭৫৳ | +৮,৭৭৫৳ |
মেঘনা ব্যাংক পিএলসি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত ফিক্সড ডিপোজিট। | ৯.৭৫% | ১,০৮,৭৭৫৳ | +৮,৭৭৫৳ |
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) ব্যক্তিদের জন্য টায়ার্ড সুদের কাঠামো। | ৯.৫% | ১,০৮,৫৫০৳ | +৮,৫৫০৳ |
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি স্বল্প থেকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য নির্ভরযোগ্য রিটার্ন। | ৯.৫% | ১,০৮,৫৫০৳ | +৮,৫৫০৳ |
ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি ডিফেন্স পার্সোনেলদের জন্য বিশেষ হার। | ৯.৫% | ১,০৮,৫৫০৳ | +৮,৫৫০৳ |
ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি জমার পরিমাণের স্ল্যাব অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। | ৯.২৫% | ১,০৮,৩২৫৳ | +৮,৩২৫৳ |
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) প্রিমিয়াম ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং হার। | ৯.২৫% | ১,০৮,৩২৫৳ | +৮,৩২৫৳ |
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি রিটেইল ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য আপডেটেড রেট। | ৯% | ১,০৮,১০০৳ | +৮,১০০৳ |
সিটি ব্যাংক পিএলসি বিভিন্ন কাস্টমার সেগমেন্টের জন্য টায়ার্ড রেট। | ৮.৭৫% | ১,০৭,৮৭৫৳ | +৭,৮৭৫৳ |
ডাচ-বাংলা ব্যাংক (ডিবিবিএল) ব্যাপক সহজলভ্যতার সাথে স্থিতিশীল রিটার্ন। | ৮.৫% | ১,০৭,৬৫০৳ | +৭,৬৫০৳ |
সোনালী ব্যাংক পিএলসি নির্ভরযোগ্য রিটার্নের সাথে সরকারি নিরাপত্তা। | ৮.৫% | ১,০৭,৬৫০৳ | +৭,৬৫০৳ |
এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) এবং এর গুরুত্ব
ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট (FDR) বা স্থায়ী আমানত হলো বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সবচেয়ে নিরাপদ এবং জনপ্রিয় সঞ্চয় ও সম্পদ-বৃদ্ধির মাধ্যম। সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের মতো বার বার সুদের হারের ওঠানামা ছাড়াই, এফডিআর গ্রাহকদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিশ্চিত ও অপরিবর্তিত সুদের হার প্রদান করে। এখানে বিনিয়োগকারীরা এককালীন একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ (১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অংক) ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর বা তার বেশি মেয়াদের জন্য ব্যাংকে জমা রাখেন। যেহেতু ব্যাংক দীর্ঘ সময়ের জন্য এই মূলধনের নিশ্চয়তা পায়, তাই সাধারণ সেভিংস একাউন্টের তুলনায় এফডিআর-এ অনেক বেশি মুনাফা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে প্রায় সব রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক (যেমন সোনালী, রূপালী), প্রথম সারির বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (যেমন ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক) এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন (যেমন আইপিডিসি, আইডিএলসি) অত্যন্ত লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক এফডিআর স্কিম পরিচালনা করে থাকে।
এফডিআর যেভাবে কাজ করে: মেয়াদ, মুনাফা প্রদান ও স্বয়ংসক্রিয় নবায়ন
এফডিআর খোলার সময় গ্রাহককে মূলত তিনটি বিষয় নির্ধারণ করতে হয়:
- মেয়াদ নির্বাচন: স্বল্পমেয়াদী এফডিআর সাধারণত ৩ বা ৬ মাসের হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী এফডিআর ১ থেকে ৫ বছরের হয়ে থাকে। সাধারণত ১ বছর মেয়াদের এফডিআর-এ ব্যাংকগুলো সবচেয়ে সেরা সুদের হার অফার করে।
- মুনাফা তোলার পদ্ধতি: গ্রাহক চাইলে পুরো আসল ও লাভ মেয়াদের শেষে একবারে তুলতে পারেন (মেয়াদপূর্তিতে মুনাফা), অথবা প্রতি মাসে বা প্রতি ৩ মাস পর পর নিয়মিত লাভ তুলতে পারেন (মাসিক/ত্রৈমাসিক মুনাফা), যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
- অটো-রিনিউয়াল বা নবায়ন: মেয়াদ শেষে ডিপিএস বা এফডিআরের আসল টাকা পুনরায় একই মেয়াদের জন্য নবায়ন করা হবে নাকি আসল ও লাভ সহ সম্পূর্ণ টাকা নবায়ন হবে, তা খোলার সময়ই ব্যাংকে নির্ধারণ করে দেওয়া যায়।
এফডিআর মুনাফা গণনার গাণিতিক সূত্রসমূহ
আমানতের ধরণ এবং মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলো সরল সুদ বা চক্রবৃদ্ধি সুদের সূত্র ব্যবহার করে:
১. সরল সুদ গণনা (১ বছরের কম মেয়াদী এফডিআর-এর জন্য):
মুনাফা = P * r * (t / ৩৬৫) এখানে: P = আসল আমানত (যেমন ৫,০০,০০০ টাকা) r = বার্ষিক মুনাফার হার (দশমিক আকারে, যেমন ১০% = ০.১০) t = মোট কতদিন আমানতটি ব্যাংকে ছিল২. চক্রবৃদ্ধি মুনাফা গণনা (দীর্ঘমেয়াদী এবং মাসিক স্কিমের জন্য):
A = P * [ ১ + (r / n) ]^(n * t) এখানে: A = মেয়াদপূর্তিতে মোট প্রদেয় মূল্য P = আসল বিনিয়োগের পরিমাণ r = বার্ষিক সুদের হার (দশমিক) n = বছরে কতবার চক্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয় (যেমন মাসিক হিসাবের জন্য ১২) t = বছর সংখ্যাসরকারি কর বিধিমালা ও বাৎসরিক আবগারি শুল্ক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এর নিয়ম অনুযায়ী এফডিআর থেকে অর্জিত মুনাফা সম্পূর্ণ করযোগ্য এবং ব্যাংক উৎস কর কাটার পর নিট মুনাফা প্রদান করে:
- ই-টিন (e-TIN) সনদ থাকলে: মোট অর্জিত মুনাফার ওপর ১০% হারে উৎস কর (টিডিএস) কাটা হবে।
- ই-টিন (e-TIN) সনদ না থাকলে: মোট অর্জিত মুনাফার ওপর ১৫% হারে উৎস কর (টিডিএস) কাটা হবে।
- বাৎসরিক আবগারি শুল্ক (Excise Duty): প্রতি বছর ৩১শে ডিসেম্বরে একাউন্টের সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ওপর নির্দিষ্ট স্ল্যাব অনুযায়ী শুল্ক কর্তন করা হয় (যেমন ১ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক)।
বাস্তব গাণিতিক উদাহরণ: ৫ লক্ষ টাকা ১ বছর মেয়াদে ১০% সুদে এফডিআর
চলুন গাণিতিকভাবে হিসাব করে দেখে নিই যদি আপনি কোনো ব্যাংকে ৫,০০,০০০ টাকা (৫ লক্ষ) ১০% সুদে ১ বছরের জন্য এফডিআর করেন, তবে কর কাটার পর নিট রিটার্ন কত দাঁড়াবে:
- আসল বিনিয়োগ: ৫,০০,০০০ টাকা।
- ১ বছরে মোট গ্রস লাভ: ৫,০০,০০০ × ১০% = ৫০,০০,০০০ টাকা = ৫০,০০০ টাকা।
- উৎস করের নিট হিসাব:
- ই-টিন সার্টিফিকেট থাকলে (১০% কর): ৫০,০০০ × ১০% = ৫,০০০ টাকা ট্যাক্স কাটা হবে। নিট লাভ = ৪৫,০০০ টাকা। মেয়াদপূর্তির মূল্য = ৫,৪৫,০০০ টাকা।
- ই-টিন সার্টিফিকেট না থাকলে (১৫% কর): ৫০,০০০ × ১৫% = ৭,৫০০ টাকা ট্যাক্স কাটা হবে। নিট লাভ = ৪২,৫০০ টাকা। মেয়াদপূর্তির মূল্য = ৫,৪২,৫০০ টাকা।
- আবগারি শুল্ক (Excise Duty): ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্সের কারণে বাৎসরিক ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
আমাদের এফডিআর ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়মাবলী
- আপনার বিনিয়োগ করতে চাওয়া এককালীন আসল জমার পরিমাণ ইনপুট বক্সে লিখুন।
- আপনি যে ব্যাংকের মুনাফা হিসাব করতে চান তার বার্ষিক মুনাফার হার প্রবেশ করান।
- আমানতের মেয়াদ (বছর বা মাস) দিন।
- আপনার **ট্যাক্স স্ট্যাটাস** (ই-টিন আছে বা ই-টিন নেই) নির্বাচন করুন।
- স্ক্রিনে সাথে সাথে আপনার মোট আসল, মেয়াদপূর্তিতে মোট গ্রস সুদ, ট্যাক্স কাটার বিবরণ এবং কর পরবর্তী আসল নিট ম্যাচুরিটি ভ্যালু দেখুন।
এফডিআর-এর সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
প্রধান সুবিধাসমূহ:
- নিশ্চিত রিটার্ন: শেয়ার বাজারের ঝুঁকি বা ওঠানামা ছাড়াই এফডিআর-এর মুনাফা শতভাগ গ্যারান্টিযুক্ত থাকে।
- জরুরী লোনের সুবিধা (Lien Loan): ডিপিএস বা এফডিআরের বিপরীতে ব্যাংক থেকে অত্যন্ত কম সুদে (এফডিআর হারের চেয়ে মাত্র ২-৩% বেশি) ৮০-৯০% পর্যন্ত ওভারড্রাফট ঋণ নেওয়া যায়।
- নমনীয় মুনাফা গ্রহণ: অবসর জীবনে প্রতি মাসে বা ত্রৈমাসিক মেয়াদে নিয়মিত লাভের টাকা তুলে সংসার চালানো সম্ভব।
সীমাবদ্ধতাসমূহ:
- অকাল ভাঙার জরিমানা: মেয়াদপূর্তির আগে এফডিআর ভেঙে ফেললে ব্যাংকগুলো অনেক জরিমানা ধরে এবং সেভিংস একাউন্টের সমান ৩-৪% সুদ দেয়।
- মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি: দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার যদি এফডিআর মুনাফার চেয়ে বেশি হয়, তবে টাকা বৃদ্ধির পরেও এর ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের সাধারণ কিছু ভুল
- বাজার যাচাই না করে অটো-রিনিউ করা: পূর্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো ব্যাংকে বেশি সুদের হার থাকা সত্ত্বেও পুরাতন এফডিআর পুনরায় অটো-রিনিউ হতে দেওয়া।
- ই-টিন জমা না দেওয়া: একাউন্ট খোলার সময় ই-টিন সার্টিফিকেট জমা না দেওয়া, যার ফলে ৫% বাড়তি অতিরিক্ত করের লোকসান গুণতে হয়।
- বিকল্প সঞ্চয় মাধ্যম এড়িয়ে যাওয়া: সরকারি সঞ্চয়পত্র এর মতো উচ্চ মুনাফাসম্পন্ন ও নিরাপদ সরকারি স্কিমে বিনিয়োগ না করে সম্পূর্ণ টাকা বেসরকারি ব্যাংকের সাধারণ এফডিআরে রেখে দেওয়া।
এফডিআর হিসাব খোলার যোগ্যতা ও নথিপত্র
বাংলাদেশে বসবাসকারী যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশী (NRB), নাবালক (অভিভাবকের মাধ্যমে), যৌথ হিসাবধারী এবং সব ধরণের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ও সমিতি এফডিআর হিসাব খুলতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
- আবেদনকারীর ২ কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের স্পষ্ট ফটোকপি।
- নমিনির ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- আবেদনকারীর বৈধ ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেটের কপি (১০% ট্যাক্স রেট পাওয়ার জন্য)।
- প্রাতিষ্ঠানিক এফডিআর এর জন্য: ট্রেড লাইসেন্স, বোর্ড রেজোলিউশন ও মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন।
এফডিআর (FDR) সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১.কোন ব্যাংক বাংলাদেশে এফডিআর-এ সর্বোচ্চ রেট দেয়?
এফডিআর সুদের হার দেশের মুদ্রাবাজারের তরলতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। সাধারণত নতুন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বিশেষায়িত শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলো ১০.৫০% থেকে ১১.৫০% পর্যন্ত রেট অফার করে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বড় বড় স্বনামধন্য ব্যাংকগুলোতে এফডিআর রেট কিছুটা কম (৭.৫০% - ৯.৫০%) হয়ে থাকে।
২.আমি কি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এফডিআর ভাঙতে পারব?
হ্যাঁ, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যেকোনো সময় এফডিআর বন্ধ বা নগদায়ন করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো পূর্বনির্ধারিত এফডিআর মুনাফার পরিবর্তে জমাকৃত মেয়াদের জন্য সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের সুদের হার (সাধারণত ৩.৫% - ৪.৫%) অনুযায়ী মুনাফা প্রদান করে। কোনো এফডিআর খোলার ৩ মাসের মধ্যে ভাঙলে কোনো মুনাফাই পাওয়া যায় না।
৩.এফডিআর এবং সঞ্চয়পত্রের মধ্যে কোনটি বেশি নিরাপদ ও লাভজনক?
জাতীয় সঞ্চয়পত্র সরাসরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গ্যারান্টিযুক্ত, তাই এতে কোনো খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি নেই এবং এর মুনাফা ব্যাংক এফডিআর-এর চেয়ে অনেক বেশি। পক্ষান্তরে, এফডিআর হলো নির্দিষ্ট ব্যাংকের গ্যারান্টিযুক্ত আমানত। তবে দেশের প্রথম সারির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এফডিআর অত্যন্ত নিরাপদ ও তরল বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৪.জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য কি এফডিআর-এ কোনো বাড়তি মুনাফা থাকে?
হ্যাঁ, বাংলাদেশে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মতো বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের (যাদের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি) বিশেষ সিনিয়র সিটিজেন এফডিআর স্কিমে সাধারণ রেটের চেয়ে ০.২৫% থেকে ০.৫০% পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা প্রদান করে।
৫.এফডিআর একাউন্টের ওপর আবগারি শুল্ক কত টাকা কাটা হয়?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এর নিয়ম অনুযায়ী, ক্যালেন্ডার বছরে কোনো একাউন্টের সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ওপর নির্দিষ্ট স্ল্যাব অনুযায়ী আবগারি শুল্ক কাটা হয়। ব্যালেন্স ১ লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে বার্ষিক ১৫০ টাকা, ৫ লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে ৫০০ টাকা, এবং ১০ লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে বাৎসরিক ৩,০০০ টাকা আবগারি শুল্ক কর্তন করা হয়।
৬.ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা টার্ম ডিপোজিট কিভাবে সাধারণ এফডিআর থেকে আলাদা?
ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো কোনো পূর্বনির্ধারিত বা নির্দিষ্ট সুদের হার দেয় না। তারা 'মুদারাবা' চুক্তির অধীনে আমানত সংগ্রহ করে এবং ব্যাংকের ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির একটি পূর্বনির্ধারিত অংশীদারিত্বের অনুপাত (PSR) নির্ধারণ করে। গ্রাহকদের প্রথমে সাময়িক মুনাফার হার দেওয়া হয় এবং বছর শেষে ব্যাংক তার আসল অর্জিত লাভের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করে।
৭.আমি কি অন্য কারো সাথে যৌথ নামে এফডিআর খুলতে পারি?
হ্যাঁ, দুই বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথ নামে এফডিআর হিসাব খুলতে পারেন। একাউন্ট খোলার সময় পরিচালনার সুবিধার্থে "Either or Survivor" (যেকোনো একজন তুলতে পারবেন) অথবা "Jointly Operated" (সবার স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক) অপশন নির্বাচন করা যায়।
৮.এফডিআর লিয়েন লোন বা ওভারড্রাফট (OD) নেওয়ার নিয়ম কী?
আপনার এফডিআর-কে জামানত হিসেবে রেখে ব্যাংক থেকে খুব সহজেই লিয়েন লোন বা ওভারড্রাফট সুবিধা নেওয়া সম্ভব। সাধারণত আপনার মোট জমাকৃত এফডিআর মূল্যের ৮০% থেকে ৯০% পর্যন্ত তাৎক্ষণিক লোন দেওয়া হয়। এই লোনের সুদের হার আপনার এফডিআর আয়ের চেয়ে মাত্র ২% থেকে ৩% বেশি হয়ে থাকে, যার ফলে এফডিআর না ভেঙে খুব সহজে আর্থিক সংকট মেটানো যায়।
অন্যান্য প্রয়োজনীয় আর্থিক টুলস
আবেদন ফরম খুঁজছেন?
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে সরাসরি অফিসিয়াল ক্রয় এবং নগদায়ন ফরম ডাউনলোড করুন।
অফিসিয়াল ফরম দেখুন →