সঞ্চয়পত্রে TIN না থাকলে কত কর কাটে?
সঞ্চয়পত্রে TIN (Taxpayer Identification Number) না থাকলে বাড়তি কোনো জরিমানা কর কাটা হয় না, তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী আপনি TIN ছাড়া ২ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতেই পারবেন না; আর ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো TIN প্রয়োজন হয় না এবং মুনাফা থেকে নিয়মিত ১০% উৎস কর (TDS) কাটা হয়।
সঞ্চয়পত্রে ই-টিন (e-Tিন) সংক্রান্ত নিয়মাবলী
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডিজিটাল অটোমেশন ডাটাবেজ প্রবর্তনের পর কর এবং নথিপত্রের নিয়ম খুব কঠোর করা হয়েছে। এটি নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারীর মনে ভুল ধারণা রয়েছে।
এখানে মূল তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো:
১. বিনিয়োগের সীমা এবং ই-টিন (e-TIN)
- ২ লাখ টাকা বা তার কম বিনিয়োগে: কোনো ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।
- ২ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে: সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট প্রদান করা বাধ্যতামূলক। এটি ছাড়া অনলাইন পোর্টাল বা ব্যাংক আপনাকে সঞ্চয়পত্র ইস্যু করবে না।
২. করের হার (উৎস কর বা TDS)
- TIN ছাড়া বিনিয়োগ (অনূর্ধ্ব ২ লাখ): আপনার অর্জিত মুনাফা থেকে নিয়মিত ১০% উৎস কর (TDS) কাটা হবে।
- TIN সহ বিনিয়োগ (২ লাখের ওপরে): নিয়মিত করের হার একই—১০% উৎস কর (TDS) কাটা হবে।
- পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের মুনাফা সম্পূর্ণ কর-মুক্ত (০% ট্যাক্স), এবং ৫ লাখের ওপরে ১০% উৎস কর কাটা হয়।
ব্যাংক এফডিআর (Bank FDR) বনাম সঞ্চয়পত্র (Sanchayapatra): কর নীতির বড় পার্থক্য
অনেক বিনিয়োগকারী ব্যাংকের এফডিআর/ডিপিএস-এর ট্যাক্স নিয়মের সাথে সঞ্চয়পত্রের নিয়ম গুলিয়ে ফেলেন। নিচে তুলনামূলক বিবরণ দেওয়া হলো যা আপনার ধারণা পরিষ্কার করবে:
| বৈশিষ্ট্য | ব্যাংক এফডিআর / ডিপিএস (Bank FDR / DPS) | জাতীয় সঞ্চয়পত্র (Sanchayapatra) |
|---|---|---|
| TIN সার্টিফিকেট থাকলে উৎস কর | ১০% উৎস কর কাটা হয় | ১০% উৎস কর কাটা হয় |
| TIN সার্টিফিকেট না থাকলে উৎস কর | ১৫% উৎস কর কাটা হয় (৫% জরিমানা কর) | কোনো জরিমানা নেই (নিয়মিত ১০% কর কাটে) |
| TIN ছাড়া ক্রয়ের বা জমার সীমা | যেকোনো পরিমাণ জমা করা যায় (জরিমানা কর প্রযোজ্য হবে) | সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ (২ লাখ) টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ |
৩. রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা PSR (Proof of Submission of Return)
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি:
- আপনার মোট সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের পরিমাণ যদি ৫ লাখ টাকা অতিক্রম করে, তবে ই-টিনের পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই বিগত অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) বা রিটার্ন জমার রসিদ সাবমিট করতে হবে।
- ৫ লাখের বেশি বিনিয়োগে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (PSR) না দিলে আপনি নতুন কোনো সঞ্চয়পত্র কিনতে বা মেয়াদ শেষে পুনর্নবীকরণ (Renewal) করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ সঞ্চয় গবেষণা দল
যাচাইকৃত আর্থিক গবেষণা ও কমপ্লায়েন্স ডেস্ক। সকল ডেটা বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সর্বশেষ সার্কুলার এবং নিয়মের সাথে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।
আপনার সঞ্চয়ের সঠিক হিসাব এখনই যাচাই করুন
আপনার কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগের ওপর সঠিক লাভ এবং উৎস করের পূর্ণ বিবরণ দেখতে নিচের ইন্টারেক্টিভ ক্যালকুলেটরগুলো ব্যবহার করুন।